বাবাই সূত্রধর,দক্ষিণ দিনাজপুর ,
পূর্বপুরুষদের শামুক চুনের ব্যবসা করে কোনমতে সংসার পরিচালনা করে চলেছে শহর এলাকার তিনটি পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যরা।
ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাদিঘাটের চূণ ভাটি এলাকায়।
লক ডাউন এর মধ্যে চুন তৈরি করার পরে তা বাইরে বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতে না পারায় আর্থিকভাবে সমস্যার মধ্যে পড়েছেন ওই পরিবারের সদস্যরা।
পৌরসভা থেকে শুরু করে প্রশাসনের কাছে কোনরকম সরকারি সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ তাদের।
ব্যবসা চালানোর জন্য এবারে তারা পৌরসভা ও প্রশাসনের কাছে সরকারি পরিষেবার পাশাপাশি ঋণের ব্যবস্থা করে সহযোগিতা পায় তার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পৌরসভা ও প্রশাসনের তরফে যেন তাদের পাশে দাঁড়ানো হয় সেই দাবি জানিয়েছেন প্রতিবেশীরাও।ওই পরিবারগুলিকে সহযোগিতা করা হবে বলে বিধায়ক ও পৌরসভার চেয়ারম্যানের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গঙ্গারামপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাদিঘাটের চূণভাটি এলাকায় শামুক চুনের ব্যবসা করে চলছেন তিনটি তামলি পরিবারের প্রায় ৪০ জনের বেশি সদস্যরা, এই কাজের মধ্য দিয়েই তাদের জীবন সংগ্রাম চলে বলে খবর। যে ব্যবসা বিনয় তামালি পরিবারের পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই করে আসছেন বাকি পরিবারের সদস্যরা বলে খবর।
তামলি পরিবারের এই চুনের ব্যবসা করার জন্যই সেই এলাকার নাম হয়েছে চুনভাটি এলাকা। শামুক তৈরি করা শিল্পী তামালিদের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, এই চুন তৈরি করতে যে ঝিনুকের দরকার হয় তা তারা পতিরাম, বালুরঘাট সহ বিভিন্ন নদী এলাকা গুলি থেকে জোগাড় করে থাকেন বাসিন্দাদের কাছ থেকে। এক বস্তা ঝিনুকের দাম প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকার মতো করে তাদের কিনতে হয়। সেই সঙ্গে একটি বড় আকারের চুল্লি তৈরি করতে হয়।
যেখানে শামুক গুলিকে আগুনে জ্বালিয়ে পোড়াতে হয়। একটি চুল্লির মধ্যে আট বস্তা শামুক পুরানো যায়। তার জন্য জ্বালানি খরচ লাগে প্রায় ১৫০০ টাকা। সকালে শামুক চুল্লির মধ্যে বসে সারাদিন সারারাত পর্যন্ত পুরনো হয়ে থাকে উনুন দিয়ে।
সব মিলে তিন দিনের মধ্যে চিনুক চুন তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার মত। একটি চুল্লি থেকে দুই কুইন্টাল চুন পাওয়া যায় বলে জানা গিয়েছে। প্রতি কেজি চুন বিক্রি হয় ৪০ টাকা কেজি দরে। যার দাম ৮০০০ টাকা। এক মাসে তিন থেকে চারবার চুল্লির মধ্যে চুন পুরানো হয়ে থাকে। এরপরে একটি গর্তের মধ্যে ঐ সমস্ত পুড়ে যাওয়া শামুক গুলিকে গুঁড়ো করে জল দিয়ে ভেজাতে হয়। সেখান থেকে ওই চুনগুলো তুলে জল ঝরে গেলে ছোট ছোট টিনের ড্রামে তুলে রাখা হয়। এই চুন তৈরি করার জন্য তার মধ্যে কোনরকম কেমিক্যাল মেশানো হয় না।
শামুক চুনগুলো পানে, খৈনি , পুকুরে ও বাড়ি রং করার কাজে লাগে বলে খবর। যা জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি মালদা, রায়গঞ্জ, , পান্জিপারা সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হয়ে থাকে।বর্তমান পরিস্থিতিতে লকডাউন এর মধ্যেই তৈরি করা চুন বাইরে বিক্রি করতে না পারায় ওই পরিবারের সদস্যরা পড়েছে বহু সমস্যায়।
শামুক চুন তৈরি করা শিল্পী সঞ্জয় তামালি ও আশিষ তামালিরা জানালেন, বাজারে শংকর চুন পাওয়া গেলেও উত্তরবঙ্গের মধ্যে আমরাই একমাত্র এই চুন তৈরি করছি চল্লিশ বছর ধরে। সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন করেছিলাম কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। এখন আমাদের পরিস্থিতি ভালো নয়।পূর্বপুরুষদের ব্যবসা ধরে রেখেছি ছেড়ে দিতে পারছি না।
পুরসভা ও প্রশাসনের তরফে যেন তাদের পাশে দাঁড়ানো হয় সেই দাবি জানিয়েছেন কৃষ্ণ ঘোষ, সুজিত ভৌমিক নামে দুই প্রতিবেশীরাও।
সাংবাদিকদের কাছ থেকে ওই পরিবারগুলিকে সহযোগিতা করা হবে বলে গঙ্গারামপুর এর বিধায়ক গৌতম দাস ও পুরসভার চেয়ারম্যান অমলেন্দু ভুষণ সরকারের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
