বাবাই সূত্রধর,
দক্ষিণ দিনাজপুর,১২ এপ্রিল;
লকডাউনে অভিনব উদ্যোগ গঙ্গারামপুর উত্তর চক্রের রায়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
লকডাউন চলাকালীন খুদে পড়ুয়াদের পড়াশোনার মান বজায় রাখতে অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর উত্তর রায়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয়।
বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা এই সময়ে বাড়িতে কিভাবে পড়াশোনা করবেন তার একটি প্রত্যায়িত( জেরক্স) কপি এদিন অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিদ্যালয়ের তরফে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাড়িতে থেকেই প্রতিদিন কিভাবে খুদে পড়ুয়ারা পড়াশোনা চালিয়ে যাবে সেই সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হয় অভিভাবকদের।
উল্লেখ্য, করোনা মোকাবেলায় দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছে সারা রাজ্যে এবং আগামী ১০ জুন পর্যন্ত সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমতাবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত হাইস্কুলে পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনলাইনে প্রতিদিন অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকাগণের দ্বারা ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সেইভাবে অনলাইন পড়ানো সম্ভব নয়।
তাই মুখ্যমন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী ছোট ছোট পড়ুয়াদের জন্য গত তিনমাসে শ্রেণী ভিত্তিক যা যা পড়ানো হয়েছে বা যা যা পড়ানো দরকার (প্রথম পর্বের মূল্যায়নের ভিত্তিতে) সেই মোতাবেক প্রশ্নের আকারে বাংলার শিক্ষা পোর্টালে প্রতিটা বিষয় নিয়ে বিশদে পিডিএফ ফাইল করে পাঠিয়েছেন এবং নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠরত ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
সেইমতো রায়পুর প্রাথমিক বিদ্যালয় তরফ থেকে রবিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকগণের হাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হোম টাস্ক এর জেরক্স কপি তুলে দেওয়া হয়।
সমস্ত অভিভাবকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয় যাতে তাঁরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন, নিজ নিজ সন্তানকে প্র্যাকটিস করান এবং ঠিক যেমন স্কুলে পরীক্ষা হয় তেমনই বাড়িতেও তাদের পরীক্ষা নেবেন তাঁরা। তারপরে উত্তর পত্রের কপি স্কুল খুললে বিদ্যালয় জমা দিয়ে আসবেন।
এর মাঝে যদি কোন অসুবিধার সম্মুখীন হন তাহলে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। সেইজন্য প্রতিটি অভিভাবকদের সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বার দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কল করে সেই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন তাঁরা।
এদিন উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজ নারায়ণ গোস্বামী, শিক্ষক সাজাহান আলী সহ অন্যান্য শিক্ষক শিক্ষিকাগণ
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক রাজ নারায়ণ গোস্বামী জানান,
আমরা মনে করি দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে এই খুদে পড়ুয়ারা পড়াশোনা থেকে অনেক দিন পিছিয়ে পড়তে পারে। তাই এইভাবে রেগুলার অ্যাক্টিভিটির মাধ্যমে থাকলে তাদের পড়াশোনায় মন বসবে এবং আগামীতে উঁচু ক্লাসে পড়ার জন্য ভিত্তি আরও মজবুত হবে। তাই আজ জেলার মধ্যে সম্ভবত সর্বপ্রথম এই কর্মসূচি শুরু করলাম।
আজ বিদ্যালয়ে এসে একটা জিনিস লক্ষ্য করেছি যে বিদ্যালয় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও বিদ্যালয় চারিদিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি গাছপালা লালন-পালন তথা বিদ্যালয়ের কিচেন, গার্ডেন সুন্দরভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করে রেখেছেন রায়পুরবাসী। আমরা তার জন্য সমস্ত রায়পুরবাসীক অশেষ ধন্যবাদ জানাই উনারা নিজবাড়ী মনে করে সমস্ত জিনিস রক্ষণাবেক্ষণ করে রেখেছেন।

