অরিত্র ঘোষ, শান্তিনিকেতন
করোনা ভাইরাসের জেরে বাতিল বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী বসন্ত উৎসব। বসন্ত উৎসব বাতিল এর কথা প্রকাশ্যে আসতেই শোকের ছায়া বিশ্বভারতীর সংগীত ভবনে। বসন্ত উৎসব বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকে মুহ্যমান হয়ে ভেঙে পড়লেন প্রস্তুতি তে মত্ত পড়ুয়ারা। দীর্ঘ কালীন সময়ের প্রস্তুতি বিফলে গেল বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে, শুরু হয়েছে বাঁশ খোলা, মঞ্চ খোলার কাজ। কার্যত আগেই ট্যুইট করে হোলিতে অংশ না নেওয়ার কথা জানিয়ে ছিলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনা ভাইরাসের জেরে কোনরকম জমায়েত করা যাবে না এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। এই বিজ্ঞপ্তির পর থেকেই আদৌ বসন্ত উৎসব হচ্ছে কিনা এই নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে যায়। এই বিষয় নিয়ে বিশ্বভারতীর রথীন্দ্র অতিথি গৃহে দুপুর তিনটে থেকে শুরু হয় বিশ্বভারতীর কর্মসমিতির বৈঠক। উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টার কর্মসমিতির বৈঠকের পর স্থির হয় এবার বসন্ত উৎসব কার্যত স্থগিত করা হলো।
প্রসঙ্গত বলা যায় এবার ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য আশ্রম মাঠ ছেড়ে পৌষ মেলার মাঠে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছিল। এই প্রথম বসন্ত উৎসবের আয়োজন করতে রাজ্য সরকার প্রায় ৮২লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল। সেই মোতাবেক প্রায় সমস্ত রকম প্রস্তুতি হয়ে গিয়েছিল যুদ্ধ কালীন তৎপরতায়। কিন্তুশেষ মুহুর্তে তীরে এসে তরী ডোবার ন্যায় বন্ধ হয়ে গেল বসন্তোৎসব।অপরদিকে রাষ্ট্রপতি কতৃক মনোনীত বিশ্বভারতীর কর্মসমিতির সদস্য ডাঃ সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "কোরোনা ভাইরাসের কথা মাথায় রেখে এবার বাতিল করা হল বসন্তোৎসব।" সংগীত ভবনের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মেঘা হাজরা, কেয়া দাস জানায়-'এই বসন্ত উৎসব ছিল আমাদের কাছে একটা আবেগের জায়গা, অনেকদিন ধরে আমরা তারই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এক কথায় বলতে গেলে প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ে এসে সব টাই যেন তাসের ঘরের মত হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল।
খুব কষ্ট হচ্ছে, কিন্ত কিছু করার নেই। মারণব্যাধি নোভেল করোনা ভাইরাস এর আতঙ্ক যেন আমাদের আবেগের উৎসব, ভালোবাসার উৎসব বসন্তউৎসব কে তছনছ করে দিলো, সেই সঙ্গে আমাদের আবেগ কেও'।


