নিজস্ব প্রতিবেদক,
উলুবেড়িয়া,হাওড়া,
বর্তমান করোনাভাইরাস জনিত উদ্ভুত পরিবেশ পরিস্থিতিতে পশ্চিমবাংলায় গ্রামীণ চিকিৎসকদের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তার স্বার্থে পদক্ষেপ গ্রহণ একান্ত জরুরী এই দাবী জানিয়ে,
গ্রামীণ চিকিৎসক সংগঠন প্রোগ্রেসিভ রুরাল ফিজিসিয়ান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর পক্ষ থেকে সংগঠনের হাওড়া জেলা সভাপতি কাজী মসিউর রহমান বলেন যে, আমরা আমাদের গ্রামীণ চিকিৎসক বন্ধুদের অনুরোধ জানিয়েছি,
বর্তমান সংকটময় সময়ে তারা যেন তাদের চেম্বার বন্ধ না করেন।
সরকারের জনস্বার্থের জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় গৃহীত যুদ্ধকালীন পদক্ষেপকে স্বার্থক ক'রে তুলতে
আমাদেরও ভূমিকা আছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতাপূরণে গ্রামীণ চিকিৎসকরা বিপদের ঝুঁকি মাথায় নিয়েও পরিষেবা দিয়ে চলেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)থেকে শুরু করে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী জনসংখ্যার প্রায় ৭০% মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা গ্রামীণ চিকিৎসকরা দিয়ে থাকে।
গরীব কৃষিজীবী শ্রমজীবী মানুষের নূন্যতম পারিশ্রমিকে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তায় প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে নূন্যতম পারিশ্রমিকের মাধ্যমে গ্রামীণ চিকিৎসকরা জীবিকা নির্বাহ করে।
কিন্তু এই সময়ে রুজি রোজগারটা বড়ো কথা নয়,গ্রামবাংলার গরীব সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পাশে থেকে তাদের সচেতন এবং সতর্ক করা থেকে শুরু করে অন্যান্য সাধারণ অসুখেও চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াও অত্যন্ত জরুরী।
তা নাহলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অত্যন্ত ভিড়ে অনেক সাবধানতা বিঘ্নিত হয়ে যেতে পারে।
বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষাপটে সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে বিভিন্ন রকম সুযোগ সুবিধা প্রদানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে, রাজ্য সরকারের এটা অত্যন্ত মানবিক সিদ্ধান্ত, কিন্তু সেইসঙ্গে গ্রামীণ চিকিৎসকদের ব্যাপারেও সহানুভূতির সাথে বিবেচনা করা উচিৎ বলে আমরা দাবী জানাচ্ছি।
গ্রাম বাংলার অধিকাংশ মানুষ যেকোনো রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে প্রথমত আমাদের কাছেই আসেন,
সেই পরিপ্রেক্ষিতে
এক আশঙ্কার নিরাপত্তাহীনতায় আমাদের গ্রামীণ চিকিৎসক বন্ধুরা বড়ো অসহায় বোধ করছে।
তারা সরকারী উদ্যোগে নূন্যতম মাস্ক, গ্লাভ্স, স্যানিটাইজারটাও পাচ্ছে না।
বাজারে অমিল থাকায় অনেকে সেখান থেকেও সঠিকভাবে পাচ্ছে না।
তবুও সতর্কতার সাথে যথা সম্ভব বর্তমান স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই সঙ্কটময় সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাওড়া জেলার ডোমজুড় থেকে শ্যামপুর, উলুবেড়িয়া,পাঁচলা, বাগনান, জগৎবল্লভপুর, আমতা , উদয়নারায়ণপুর প্রভৃতি ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে চলেছি।
সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের নেতা মাননীয় মনোজ চক্রবর্ত্তীর নির্দেশ মেনে পশ্চিমবাংলার বিভিন্ন জেলায় সংগঠনের সদস্য গ্রামীণ চিকিৎসকরা বর্তমান বিপদজনক পরিস্থিতিতেও চেম্বার খোলা রেখে সামাজিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে।




