মালদা, ১৬ মার্চ-
মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চলছে রক্ত সঙ্কট। ব্লাড ব্যাঙ্কে প্রায় রক্ত শূন্য। সমস্যায় পড়েছেন থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী থেকে অন্যান্য রোগীর আত্মীয়েরা।
ব্লাড ব্যাঙ্কে এসে শূন্য হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁদের। এমনকী ডোনার নিয়ে আসাটা একরকম নিশ্চিত করা হয়েছে। এই অবস্থায় এগিয়ে এলেন বেশ কিছু যুবক। সরাসরি মালদা ব্লাড ব্যাঙ্কে এসে রক্ত দিয়ে গেলেন।
ওই যুবকদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রোগীর আত্মীয় থেকে মালদা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাঁরা ৩০ জন সোমবার রক্ত দিয়ে যান।
গত শনিবার সকাল থেকেই মালদা মেডিক্যালের ব্লাড ব্যাঙ্কের ভাঁড়ার প্রায় শূন্য। এদিনও একই অবস্থা। তার মধ্যে এখন রক্তদান শিবির কমে গেছে। তাছাড়া এই সময় রক্তের একটা সমস্যা হয়েই থাকে। কিন্তু এবার খানিকটা আগে থেকেই এই সমস্যা।
খবর যায় জেলায় বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিয়োজিত যুবকদের কাছে। তাঁদের তৈরি ফসিলস আর্মি-র মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় ১২০ জন সদস্যের মধ্যে।
এদিন সকালে নিজেরা হাজির হয়ে ৩০ জন রক্ত দিয়ে যান। জানা গেছে, তাঁদের এই সংস্থার বয়স মাত্র ৩ বছর। সোমনাথ চক্রবর্তী, সৌমেন দাস, সঞ্জু রহমান, ইন্দ্রনীল ঘোষকে দিয়ে পথচলা শুরু হয় তাঁদের সংস্থার। তারপর সদস্য সংখ্যা বাড়তে থাকে।
যুবকদের পাশাপাশি রক্ত দেন সোনালী ধবল, পর্ণা কুন্ডুরাও। জানা গেছে, তাঁদের সদস্যরা কেউ মেডিক্যালের পড়ুয়া, কেউবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়ুয়া। তাঁদের সদস্যদের মধ্যে সোমনাথ চক্রবর্তী বলেন,‘আমরা নিজেরা হাজির হয়েই বিভিন্ন সামাজিক কাজ করে থাকি।
এর আগে আমরা ঘুরে ঘুরে দু:স্থদের দুপুর খাবার খাইয়ে আসি। কম্বলও ঘুরে ঘুরে বিলি করি। এবার আমরা ব্লাড ব্যাঙ্কে হাজির হয়ে রক্ত দিলাম। আমাদের এরকম কাজ চলতেই থাকবে।’
রক্তদানের ব্যাপারে ওই যুবকেরা এগিয়ে আসার ব্যাপারে মালদা মেডিক্যালের এমএসভিপি অমিত দাঁ বলেন,‘দু’দিন ধরে ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্তের অভাব দেখা দিয়েছে।
রক্তদান শিবির সেই অর্থে হচ্ছে না এখন। ওই যুবকেরা ত্রাতা হয়ে হাজির হয়েছেন এদিন। তাঁরা অন্যদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।’
