বাবাই সূত্রধর,
দক্ষিণ দিনাজপুর ৯মার্চ;
বসন্ত উৎসব পালন করা হলো শহর জুড়ে।সোমবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর এ বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে প্রভাত ফেরি ও একাধিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একে অপরকে আবিরের রংয়ে রাঙিয়ে বসন্ত উৎসব দিনটিকে পালন করা হয়।
অন্যদিকে গঙ্গারামপুর পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের দত্তপাড়া এলাকায় বসন্ত উৎসব কে সামনে রেখে স্থায়ী দুর্গা মন্দির তৈরীর কাজে র ভিত্তি স্থাপন করা হয়। যেখানে পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
ফাল্গুনের বসন্ত উৎসব, উৎসবে মেতে ওঠা মানুষদের নানা রঙে রাঙিয়ে দেয়। রামধনুর সাতটি রং যেন উৎসবে মেতে ওঠা আনন্দ কারীদের হাতের আবিরের থালাতে সাজানো থাকে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর বহু সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বসন্ত উৎসব পালন করা হয়।
এদিন শিববাড়ি এলাকায় একটি অঙ্কন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে বসন্ত উৎসব পালন করা হয়। রবিবার ওই অংকন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে র তরফ থেকে অঙ্কন প্রতিযোগিতা করানো হয়।
সোমবার অংকন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে একটি প্রভাত ফেরী করানো হয়,যেখানে অঙ্কন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের শিক্ষিকা সুপ্রিয়া চক্রবর্তী,ডক্টর ধ্রুব চক্রবর্তী সহ ছাত্র ছাত্রী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।প্রভাত ফেরী টি এলাকার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে এসে শেষ হয়।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একে অপরকে আবিরের রঙে রাঙিয়ে
ওই অংকন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের বসন্ত উৎসব দিনটিকে পালন করে। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রশিক্ষণ কারিরা।
অঙ্কন প্রশিক্ষণ কারী শিক্ষিকা সুপ্রিয়া চক্রবর্তী ও ডক্টর ধ্রুব চক্রবর্তী রা জানিয়েছেন, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের নিয়ে আজকের এই বসন্ত উৎসব দিনটিকে পালন করলাম।
অন্যদিকে গঙ্গারামপুর শিবম সেবা সমিতির তরফেও বসন্ত উৎসব দিনটিকে আনন্দ সহকারে পালন করেন। এদিন তারা শিক্ষা জগতের মানুষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষদের নিয়ে একটি রেলি বের করেন ।
যে রেলি টি গঙ্গারামপুর শহর পরিক্রমা করে চৌপতি এসে শেষ হয়। এবং চৌপতি এলাকায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আবিরের রঙের নিজেদের রাঙিয়ে বসন্ত উৎসব দিনটিকে পালন করেন।
এ বিষয়ে গঙ্গারামপুর শিবম সেবা সমিতির সম্পাদক মিদুল ঘোষ জানিয়েছেন, আজ আমরা বেশিরভাগই শিক্ষা জগতের মানুষদের নিয়ে বসন্ত উৎসব পালন করলাম।
অন্যদিকে বংশীহারী থানার বাতাসপুর এলাকার ফান্ডামেন্টাল টিচার ট্রেনিং কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বসন্ত উৎসব পালন করেন।
পাশাপাশি একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গঙ্গারামপুর পৌরসভার ১০ নাম্বার ওয়ার্ডের দত্তপাড়া এলাকায় বসন্ত উৎসবের দিনে স্থায়ী দুর্গা মন্দির তৈরীর কাজের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। ফিতে কেটে, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ও ভিত্তি স্থাপন করে স্থায়ী দুর্গা মন্দিরের কাজের সূচনা করা হয়।
যেখানে উপস্থিত ছিলেন গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান অমলেন্দু ভূষণ সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান রাকেশ পন্ডিত, জমিদাতা নমিতা সাহা, দুর্গা মন্দির নির্মাণ কমিটির সম্পাদক অচিন্ত্য বসাক, বিশিষ্ট সমাজসেবী অশোক জোয়াদ্দার সহ আরো অনেকেই।
এ বিষয়ে গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান অমলেন্দু ভূষণ সরকার জানিয়েছেন, এখানে কোনো স্থায়ী মন্দির ছিল না, সাহা পরিবারের জমিদারের পরেই এলাকাবাসীরা স্থায়ী দুর্গা মন্দির বানানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
জমিদাতা নমিতা সাহা জানিয়েছেন, পরিবারের স্বর্গবাসী ব্যক্তিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে আমরা দুর্গা মন্দির তৈরীর জন্য জমি দান করেছি।
দুর্গা মন্দির নির্মাণ কমিটির সম্পাদক অচিন্ত্য বসাক জানিয়েছেন, এর আগে স্থায়ী মন্দির ছিল না তাই এলাকাবাসী র পূজার্চনার ক্ষেত্রে একটু অসুবিধা হতো , সাহা পরিবারের জমি দানের পরে আমরা সবাই মিলে দুর্গা মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, এর ফলে ধর্মীয় পূজার্চনার ক্ষেত্রে এলাকাবাসীদের সুবিধা হবে।


