কালকে বাঘনাপাড়া স্টেশনে অনিল অধিকারী নামে এক অক্কন শিল্পীর দেখা পাওয়া গেলো, যার বাড়ি বজ বজ, এই অবাক পৃথিবীতে কত রকমের মানুষ আছে,
অনিল অধিকারী সেই রকম এক অবাক করা মানুষ, ভবঘুরে, সে তার মনের কথা প্রকাশ করছে ছবি একে, তার মনের যত রাগ ভালোবাসা চাওয়া পাওয়া আছে বা ছিল তা শুধু প্রকাশ পাচ্ছে ছবির মাধ্যমে, তার ছবি আঁকতে রং তুলি কাজ বা ক্যানভাস কিছুই লাগেনা শুধু লাগছে ইটের টুকরো, কয়লার টুকরো,
চক আর কচু পাতা, কচু পাতা দিয়ে স্টেশনের মেজেতে তার ছবি তে ঘষে ঘষে সবুজ রং করছে, এ যেন বসন্ত উৎসবের আগে বাঘনা পাড়া স্টেশনে বসন্ত উৎসব হলো, রং তুলি ক্যানভাস কেনার পয়সা নেই তাই তিনি তার মনের যত দুঃখ, না বলা কথা, জীবনে কোনো কিছুনা পাওয়া এই সকল বেদনা বাঘনা স্টেশনে মেঝেতে ক্যানভাস মনে করে রেখে গেছে,
এমনি তার বিবর্ণ মুখ আর ধুলো মাখা শীর্ণ শরীর চাদরের আড়ালে লুকিয়ে রাখতে ভালোবাসে,কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চায় না, কথা বলার চেষ্টা করলে অসুন্তুষ্ট হয়, মুখ যেনো আরো চাদরের ভিতরে লুকিয়ে রাখে,হয়তো এই প্রতিভাবান শিল্পীর জীবনে সবকিছুই ছিল, ভালোবাসার মানুষ ও ছিল, ছোট্ট পরিবার ছিল ভাগ্যের পরিহাসে আজ সে পথের ভিখারি, তার কোনো গন্তব্য স্থল নেই,
তার মনের ক্যানভাসের ছবি স্টেশনে দুঘন্টা ধরে আঁকে, ছবির মধ্যে তার ভালোবাসার মানুষের কথা নানা ভাবে তুলে ধরে, আঁকা কম্পলিট হলে তিন চার ঘন্টা বসে থাকে যদি তার হারিয়ে ভালোবাসা তারকাছে ফিরে আসে ভালোবেসে তার হাত দুটো ধরে বলে চলো আবার নতুন করে আমরা বাঁচি





