প্রশাসন দাবি করেছিল, প্রকৃত উপভোক্তারা যাতে সরকারি আবাস প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না হন, সে ব্যাপারে সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।
তারপরেও প্রাপক তালিকাভুক্ত আবাস যোজনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠল মালদহের চাঁচল ২ নং ব্লকে।
তবে প্রশাসনকে নয়, ঘটনার জন্য শাসক দলের পঞ্চায়েত সদস্যকেই দায়ী করেছেন প্রাপক। চাঁচল ২ নং ব্লক সূত্রে খবর, বঞ্চিত হওয়ার ক্ষোভে মালতিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের লালগঞ্জ-নয়াটুলির নিতাই চন্দ্র দাস বিডিও অফিসে বুধবার অভিযোগ জানান।
এদিন অভিযোগ বিডিও এর কাছে জমা দিতে এসে বলেন, আমার নাম প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা বাংলা আবাস যোজনায় প্রাপকের তালিকায় রয়েছে।
সরকারি আবাস যোজনায় বাড়ি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছিলাম। তবে এলাকার অন্য উপভোক্তারা ঘর পেয়ে গেলেও আমি পায়নি।
তাঁর ক্ষোভ, আমি বাড়ি পাওয়া থেকে বঞ্চিত থেকে গেলাম।
তাই ন্যায় বিচার পেতে বিডিও র কাছে ছুটে এসেছি।
সম্প্রীতি ০৭ বছর হলো একচোখে দেখতে পায়না নিতাই বাবু।
অন্য চোখে আবছা দৃষ্টিতে চলে তার দুনিয়া। অর্ধ দৃষ্টিহীনতা কে সামনে রেখে তবুও পিছিয়ে নেয় সন্তানদের পড়াশুনা। ঘরে স্ত্রী ও এক ছেলে ও কন্যাকে নিয়ে চারজনের সংসার।
এবছর গোবিন্দপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক দিবে ছেলে চন্দন দাস। মেয়ে রিমি দাস মালতিপুর গার্লস স্কুলে পঞ্চম শ্রেনীতে পাঠরত। নিতাই বাবু পূর্বে দিনমজুরের পেশায় যুক্ত থাকলেও দৃষ্টিহীনতায় বর্তমানে আর কেউ কাজে নেয়না। স্ত্রী গেহুলি দাস বিত্তবানদের ঘরে কাজ করে সংসার চালায়।
রাধুনীর উপার্জনে চলে না, এক বেলা আহার জুটলেও আর এক বেলার ভাবতে হয় তাদের। এমনই দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারটি বলে সাংবাদিকদের কাছে সুপারিশ করেছে গ্রামবাসী।
স্হানীয় দের বক্তব্য নিতাইবাবুর বাস্তভিটে ছাড়া এক ছটাক চাষের জমিও নেই, পরিবারে নেই কোনো সরকারি ভাতা।
আর একদিকে লোকের বাড়িতে কাজ সন্তানদের শিক্ষার আলো দেখিয়ে যাচ্ছেন গেহুলি দেবী। গেহুলি জানান, আমাদের একটি মাত্র শয়ন কক্ষ এক ঘরেই ছেলে মেয়েরা লেখা পড়া, খাওয়া দাওয়া ও আমরা চারজন ঘুমায়।
আর্থিক সঙ্কট থাকায়,পুনঃ নির্মান করতে পারিনি ছোট্ট কুটিরটি। তাই বেড়ার ওয়ালটি জরাজীর্ন অবস্থায় পরে রয়েছে।
টিনের ছাউনিতেও ফুটো হয়েছে। খন্ড-বিখন্ড প্লাসটিক দিয়ে ফুটো আটকে রেখেছি। ঝড় বৃস্টি হলেই অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। তবে সরকার মুখে হাসি ফুটিয়েছিল যখন শুনেছিলাম আমাদের সরকারি ঘর এসেছে । তবে তা বুথ মেম্বার বা কোনো শাসক নেতার কারনে ঘর পা্চ্ছে না বলে দাবী তাদের।
তালিকায় নাম থাকাতে নিতাইবাবু বিভ্রান্ত কবে ঘর পাব? কাটমানি না দেওয়ার জন্য ঘর পাচ্ছি না বলে অনুমান করছে আবেদন কারী।
গরীব বলে ক্ষতপাত করা হচ্ছে বলে একরাশ ক্ষোভ প্রকাশ তার।
অভিযোগ পেয়ে চাঁচল ২ নং ব্লকের বিডিও অমিত কুমার সাউ জানান,পঞ্চায়েত দপ্তরকে তা খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হবে।
তালিকাভুক্ত কেন পাননি আবাস। না পেলে অন্য কোনো প্রকল্প থেকে ব্যবস্থা করে ঘর আবাসভুক্ত করা হবে।

