২০১৯ এর শেষভাগে শুরু, চীনে উদ্ভুত নোভেল করোণা ভাইরাসজনিত ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে এই মারণরোগ নিয়ে সারা বিশ্ব এখন আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। নিশ্বাস, হাঁচি-কাশি থেকে ছড়ানো কফ-থুতু-লালাসিক্ত ষ্পর্শেও এ রোগের সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্ট, কিডনি ও হার্টের রুগীরা এতে বেশি করে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
এ কারণেই ভয়মিশ্রিত নানা গুজবে মানুষ দিশেহারা হচ্ছে।
বিশ্ব সাস্থ্য সংস্থা "হু" এর নির্দেশ অনুযায়ী সাবধানতা হিসাবে পথে ঘাটে জনবহুল জায়গায় ভালো মানের মুখোশ ব্যবহার করুন। বাইরে থেকে এলে হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন ও পোষাক পালটান।
ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার খান। মাংস খাওয়া যতটা পারেন এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে কম সিদ্ধ ও অপরিচিত মাংস।
কিছুক্ষণ ছাড়া ছাড়া নিয়মিতভাবে খুব অল্প পরিমাণে জল পাণ করুন। এতে মুখের ভিতরটা ও খাদ্যনালী ভিজে থাকবে এবং সংক্রমণের ভয় অনেক কমে যাবে (বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিকতম আবিস্কার)।
★এক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান। কারণ আমাদের হাতের কাছেই আছে অতি সহজলভ্য একটি ভেষজ উপাদান, যা রোগটি প্রতিরোধে এবং প্রতিষেধক হিসাবেও অসামান্য ফলপ্রদ হবে।
আমলা বা ধাত্রী, ইংরাজীতে Indian gooseberry, বৈজ্ঞানিক নাম Phyllanthus embelica ভারতীয় উপমহাদেশেরই ফল। এটি 'আয়ূর্বেদোক্ত' অন্যতম শ্রেষ্ঠ "রসায়ন" ও বটে।
কাঁচা অথবা শুকনো করে রাখা আমলকির টুকরো মুখে রাখলে বহুক্ষণ মুখ লালাসিক্ত থাকবে, এবং আমলকি ভিটামিন সি এর খনি। নিশ্চিন্তে আমলকি খান।
অতএব অযথা আতঙ্কিত হবেন না।
"হু" এর নির্দেশ ঠিকমতো মেনে চলুন। বন্যপশু, পাখি, সরিসৃপ ও কীটপতঙ্গের দেহে থাকা এই ভাইরাস প্রধানতঃ চীনাদের বিকৃত খাদ্যমনস্কতার জন্য মানুষের দেহে ঢুকে 'মিউটেশন' হয়ে মানুষকে 'ভেক্টর' করে ছড়িয়ে পড়েছে।
আর পাঁচটা অসুখের মত এরও যথাযথ নিরাময়ক নিশ্চয়ই আবিস্কৃত হবে।
এটাতো সত্য, ভাইরাসঘটিত কোনো অসুখেরই কোনো প্যাথিতে, সরাসরি কোনো ওষুধই নেই, লক্ষণ অনুযায়ী ম্যানেজমেন্টই শুধু করা হয়।
প্রতিরোধের সহজতম উপায় তো বললামই। অযথা ভীত হবেন না। ভালো থাকুন সবাই।
সৌরেন্দুশেখর বিশ্বাস

