আক্তারুল খাঁন,হাওড়া(বাউড়িয়া)
পুলওয়ামা হামলার বর্ষপূর্তি আজ।
গতবছর পুলওয়ামারঅবন্তীপোরায় সিআরপিএফ কনভয়ে জঙ্গি হামলায় যে ৪২ জন জওয়ান শহিদ হন তাদের মধ্যে ছিলেন হাওড়া জেলার বাউড়িয়ার চককাশী গ্ৰামের বাসিন্দা ৩৯ বছরের বাবলু সাঁতরাও।বাবলুর স্মরণে ইতিমধ্যে চককাশী রাজবংশী পাড়ায় তাঁর মূর্তি বসানো হয়েছে।
বদলা চাই না, শুধু শান্তি চাই, এখনও বলছেন শহিদ বাবলু সাঁতরার পরিবার। শহিদদের মধ্যে ছিলেন বাবলু সাঁতরা। সেই সময় শহিদ জওয়ানদের শ্রদ্ধা জানাতে পথে নেমেছিল হাজার হাজার মানুষ। অর্থ সাহায্য দিয়ে, চাকরি দেওয়ার ঘোষণার মাধ্যমে শহিদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার।
মাত্র একবছর আগের ঘটনা।গত বছর ১৪ ই ফেব্রুয়ারি ঠিক আজ “ভালোবাসার” দিনেই ভালোবাসার লোকেদের কাছ থেকে তাঁকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল পুলওয়ামা জঙ্গি হামলা। কিন্তু কাছের মানুষটিকে হারানোর যন্ত্রণা বুকে চেপেই বাবলুর পরিবার এখনও বলছে, তারা বদলা চায় না, শান্তি চায়।
একবছর পরই অবসর নেওয়ার কথা ছিল। কথা ছিল কয়েকদিনের মধ্যেই ছুটিতে বাড়ি আসবেন কিন্তু বড্ড তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। তবে পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটিয়ে নয়, কাঁদিয়ে। সেদিন তাঁদের এলাকায় উঠেছিল “শহিদ বাবলু সাঁতরা অমর রহে” স্লোগান। কান্নার রোলে তাঁকে বিদায় জানিয়েছিল সবাই। তাঁর মা, স্ত্রী, ভাইদের চোখের জল সেদিন বাধ মানেনি। আর বাবলুর চিরছুটিতে যাওয়ার একবছর হতে চলল। তিনি নেই কিন্তু বাড়ির প্রায় প্রতিটি জায়গাতেই রয়েছেন বাবলু সাঁতরা তা নিয়েই এখন বেঁচে আছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
পুলওয়ামা জঙ্গি হামলায় বাবলুর সঙ্গে শহিদ হয়েছিলেন আরো ৪২ জন সি আর পি এফ জওয়ান। রাগে, দুঃখে, শোকে বদলা চেয়েছিলেন অনেকেই কিন্তু বাবলুর পরিবার চায়নি। তাঁর স্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁরা যুদ্ধ চান না। যুদ্ধ সমাধান হতে পারে না। তাঁর মা ও ভাইয়ের গলাতেও শোনা গেল একই সুর। মা বনমালা দেবী বলছেন, বদলা চাই না, শুধু শান্তি চাই। তাঁর ভাই কল্যাণ সাঁতরা বলছেন, যুদ্ধ করলেই সবকিছুর সমাধান হয় না। তবে সবাই যাতে ভালোভাবে ডিউটি করতে পারে সেই ব্যবস্থা থাকা দরকার।
১৪ ফেব্রুয়ারি বাবলু শহিদ হলেও তিথি অনুযায়ী গত ৩ ফেব্রুয়ারি বাবলুর বাৎসরিক পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাউড়িয়ার চককাশির বাড়িতে বাবলুদের বাড়িতে বাবলুর মা বনমালী দেবী ও ভাই কল্যাণ সাঁতরা থাকেন।বাবলুর স্ত্রী মিতা সাঁতরা মায়ের বাড়ি হুগলীর উত্তরপাড়ায় থাকেন।গত ৩ তারিখ বাবলুর বাৎসরিক পারলৌকিক ক্রিয়ায় এসেছিলেন শ্বশুরবাড়িতে। তিনি বর্তমানে কাঁকুড়গাছিতে কর্মরতা।
উল্লেখ্য, ছেলেবেলাতেই বাবাকে হারিয়েছিলেন বাবলু। অভাবের মধ্যে টিকে থাকার লড়াই শুরু সেই থেকে। ২০০০ সালে কুড়ি বছর বয়সে যোগ দেন সেনা বাহিনীতে। তিনি সিআরপিএফের ৩৫ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ান ছিলেন।
বাবলুর স্মরণে এদিন অনেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাবলুর স্ত্রী মিতা সাঁতরাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি যাবেন না বলে পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে।


