এনআরসি, ক্যা-র বিরোধীতা করে পথে নামল বহুজন ক্রান্তি মোর্চা।
জাতীয় সড়ক অবরোধ করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান সংস্থার আদিবাসী সদস্যরা। বিজেপি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে তারা বিক্ষোভে সামিল হন।
শুধু এনআরসি কিংবা ক্যা নয়, ইভিএম ছাড়া নির্বাচন করানোর দাবিতে সোচ্চার হন তাঁরা। ডিএনএ-টেস্টের ভিত্তিতে এনআরসি ও ক্যা করার দাবি তুলছে তারা। সরস্বতী পুজোর দিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে রাস্তা অবরোধে সামিল হন বিক্ষোভকারীরা।
পুরাতন মালদার কালুয়াদিঘির কাছে চেঁচুমোড়ে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।
অন্যদিকে হবিবপুরের আইহো-তে মঙ্গলবাড়ি-নালাগোলা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। ধামসা, মাদলের সঙ্গে তীর, ধনুক নিয়ে সামিল হন অবরোধকারীরা।
কোনও অপ্রীতিকার ঘটনা এড়াতে দু’জায়গাতেই পুলিশ মোতায়েন করা ছিল।
যদিও দীর্ঘক্ষণ অবরোধের ফলে সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। মালদা-গাজোল, মঙ্গলবাড়ি-নালাগোলা রুটের যাত্রীরা আটকে পড়েন। এমনকী, সরস্বতী পুজোয় অনেকে দেরি করে পৌঁছতে হয়েছে অনেককে।
অনেকে সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতেই পারেন নি। বিশেষ করে সমস্যায় পড়তে হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। জানা গেছে, গোটা দেশ জুড়ে বহুজন ক্রান্তি মোর্চা এদিন আন্দোলনে নামে।
তাদের বক্তব্য, এনআরসি, ক্যা প্রয়োগ করে মুসলিমদের মতো আদিবাসী সম্প্রদায়কে বিদেশী ঘোষণা করা হবে। অথচ মূল নিবাসীদের দেশ ছাড়ার যে ষড়যন্ত্র বিজেপি সরকার করেছে, তার বিরুদ্ধে জাগ্রত হতে আহ্বান জানিয়েছে সব বিরোধী দলগুলিকে। পাশাপাশি আদিবাসীদের বিদেশী ঘোষণা করার পেছনে ব্রাহ্মণদের চক্রান্ত রয়েছে বলে তাদের দাবি।
যেখানে রাজ্যস্তরে বাহ্মণদের সংখ্যা খুবই সামান্য। ভারতে প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ। সঠিকভাবে নির্বাচন করা হলে সংখ্যাবলে ব্রাহ্মণরা গ্রাম পঞ্চায়েতেও প্রার্থী হতে পারে না। কিন্তু তারা সবার উপরে গিয়ে ছুরি ঘোরাচ্ছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।
তারা দাবি তুলেছে, ব্রাহ্মনদের ধর্মীয় মেরুকরণ করা ভীষণ জরুরী। ডিএনএ-র মাধ্যমে মূল নাগরিকদের বাছাই করার ব্যাপারে বলতে গিয়ে সংগঠনের জেলা সংযোজক মনাতন হেমরম বলেন,‘আমরা বিশ্বাস করি ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে মূল নিবাসীদের চিহ্নিত করা হোক। তারপর নাগরিত্ব দেওয়ার ব্যাপের ভাবা হোক। আমরা আদিবাসী দেশের প্রথম নাগরিক।
অথচ বিজেপি সরকার ব্রাহ্মণদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আমাদের বিদেশী ঘোষণা করার পেছনে উঠে পড়ে লেগেছে।
টিএমসি-র মতো সব বিরোধী দলকে এখন প্রতিবাদে নামা দরকার।’

