গৃহবধূকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হল স্বামী।
অভিযুক্ত মনুয়ারুল হককে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ গ্রেফতার করে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার রনিয়াবাড়ি গ্রামে।
অভিযোগ পরপর দুটি কন্যাসন্তানের জন্ম ও আরো পনের টাকার দাবিতে মনুয়ারুল ও তার পরিবারের লোকেরা স্ত্রী মুক্তারি খাতুনকে(২৪) শ্বাসরোধ করে খুন করেছে।
এই ঘটনায় নিহতের বাবা মুক্তার আলি জামাই মনুয়ারুল হক ও মেয়ের শ্বশুরবাড়ির আরও ৪ জনের বিরুদ্ধে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তার ভিত্তিতে পুলিশ মনুয়ারুলকে গ্রেফতার করেছে। বাকিরা পলাতক।
তাদের খোঁজে পুলিশ তল্লাশি করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাচল থানার শিহিপুর কুশিয়াল বাড়ির বাসিন্দা মুক্তার আলির কন্যা মুক্তারি খাতুনের সঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার রোনিয়াবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মৃত খোকন মোড়লের পুত্র মনুয়ারুল হকের বিয়ে হয় ৬ বছর আগে।
বিয়ের সময় পাত্রপক্ষের দাবিমতো নগদ টাকা ও সোনার গয়না দেন মুক্তার আলি। অভিযোগ তা সত্ত্বেও বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই আরও টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
তাদের কথা না শুনলেই জামাই ও তার পরিবারের লোকেরা মেয়ের ওপর অকথ্য অত্যাচার চালাত।
পরপর দুটি কন্যা সন্তান মাহি খাতুন (৩) ও আনিকা খাতুন (৯ মাস) কে জন্ম দেওয়ায় তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা আরো বেশি করে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করত বলে জানান।
এতকিছুর পরেও মেয়ে সংসার করার জন্য সব চুপচাপ মেনে নিত।
শনিবার দুপুর বারোটা নাগাদ মনুয়ারুল হক ও তার পরিবারের লোকেরা তাদের ফোন করে জানান মুক্তারি খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
মুক্তারবাবুরা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখেন মুক্তারি খাতুন মৃত অবস্থায় সবার ঘরের বারান্দায় পড়ে রয়েছেন।
মুক্তার আলি বলেন, জামাই ও তার পরিবারের লোকেরা মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে।
তার মেয়ের গলায় নখের দাগের চিহ্নও রয়েছে বলে জানান।
তিনি হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
পুলিশ একটি খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

