শুক্রবার সাতশো শীতার্ত অসহায় গরীব মানুষদের শীত বস্ত্র দান করলেন হরিশ্চন্দ্রপুর রুটি ব্যাংক।
জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের হাতে শীত বস্ত্র তুলে দেন হরিশ্চন্দ্রপুর রুটি ব্যাংক।
যাঁরা দুবেলা একমুঠো খাবার জোগাড় করতে রীতিমতো নাস্তানাবুদ হন, শুধু তাঁদের অন্ন সংস্থানের কথা মাথায় রেখেই চালু হয়েছে এই অভিনব ব্যাংক
এদিন বস্ত্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস, হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের ভিডিও অনির্বাণ বসু, রুটি ব্যাংকের কর্ণধার তনুজা জৈন, সভাপতি দীপক জৈন, সদস্য রানা রাজি ও চৈতালি রায় সহ উদ্যোক্তারা।
রুটি ব্যাংকের কর্ণধার তনুজ জৈন জানান,২০১৮ সালের ১৭ জুন হরিশ্চন্দ্রপুরে রুটি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা হয়।
তিনি আরো জানান দু'বছর আগে জামশেদপুর থেকে ট্রেনে চেপে হরিশ্চন্দ্রপুরে বাড়ি আসার পথে জামশেদপুরের এক ভদ্রলোকের সঙ্গে ট্রেনের বগির মধ্যে সাক্ষাৎ হয়।
তার পরামর্শে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম বাসীদের সহযোগিতায় নিজ অর্থ ভান্ডার থেকে প্রতিষ্ঠিত হয় রূটি ব্যাংক।
সেই ২০১৮ সাল থেকে দু'বছর ধরে এলাকার অসহায় দুঃস্থ মানুষদের দিনে একবেলা খাবার দিয়ে আসছে।
জানা গিয়েছে,এলাকার সমস্ত বাড়ি থেকে অল্প পরিমাণে রুটি সংগ্রহ করা হয় এই রুটি ব্যাংকে৷
তারপর সেগুলি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় মজুত করা হয়৷
সঙ্গে তৈরি করা হয় সবজি৷ প্রতিদিন ব্যাংকের পক্ষ থেকে কয়েকশো দরিদ্র মানুষের মধ্যে এই রুটি ও সবজি একবেলা বিতরণ করা হয়৷
রুটি ব্যাংকের সদস্য দীপিক জৈন, চৈতালি রায়, রানা রাজি, বর্ণালী সরকার বলেন, ‘‘মানুষের বাড়িতে প্রচুর খাবার নষ্ট হয়।
আবার আমাদের দেশে প্রচুর মানুষ প্রতিদিন অভুক্ত থাকে। সেই বেঁচে যাওয়া খাবার যাতে নষ্ট না হয় ও সেই খাওয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলি করা যায়।
এই ছিল চিন্তা ভাবনা।
এর থেকেই পথ চলা শুরু। এর শাখা হিসেবে ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর চাচলে শুরু হয়েছে রুটি ব্যাংক।
যার দায়িত্বে রয়েছে মহম্মদ সাইদু জামান।
তনুজ জৈন জানান, হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের বিডিও অনির্বাণ বসুর কাছে আবেদন জানিয়েছি।
সরকারি পক্ষ থেকে যদি কোন রকম আর্থিক সাহায্য পাওয়া যায় তবে এলাকার অসহায় দুঃস্থ মানুষদের আরো পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে দু বেলা খাবার তুলে দিতে পারবে।

