পিকনিকে তো অনেকেই গিয়ে থাকেন। পিকনিকের পর যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকে প্লাস্টিক থেকে থার্মোকলের সামগ্রী।
ফি-বছর এই নিয়ে জেলা প্রশাসন প্রচার চালালেও এখনও সেই তিমিরেই। এবার জেলা উপ্রশাসনের পাশে দাঁড়ালেন শহরের কিছু যুবক।
প্লাস্টিক, থার্মোকলের বিরুদ্ধে যেমন তাঁদের প্রচার, পাশাপাশি কুমোরদেরও বাঁচিয়ে রাখারও উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা।
পরিবেশ-বান্ধব সামগ্রী দিয়ে পিকনিক করে তাঁরা নজির সৃষ্টি করেছেন। পিকনিকের রান্নার সামগ্রী হাঁড়ি, কড়াই, গ্লাস-সবই মাটির তৈরি। এমনকী খুন্তিও কাঠের তৈরি। খাওয়া-দাওয়ার পাতাও কলার।
কলার পাতা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে যুবকের মধ্যে অপু দত্ত, সঞ্জীব রায়রা বলেন,‘আমরা দেখেছি থার্মোকল, প্লাস্টিকের থালা ব্যবহার করতে। এখানে অনেক ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।
সেখানে এই কলার পাতা মাটিতে মিশে সারে পরিণত হবে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে চলে।’ সোমবার তাঁরা পুরাতন মালদার বেহুলা নদীর পাড়ে পিকনিকের আসন বসান।
সেখানে পুরাতন মালদার পাশাপাশি ইংরেজবাজার পুরসভার মানুষও পিকনিকের মরশুমে ভিড় জমিয়ে থাকেন। শহরের কাছাকাছি পিকনিক স্পট বলা চলে।
বিভিন্ন পিকনিক পার্টির সঙ্গে হাজির হয়েছিলেন ওই যুবকদের দলও। তাঁদের অভিনব উদ্যোগ দেখে উৎসাহীরা অনেকেই ভিড় জমান তাঁদের কাছে।
প্রকৃতি সহায়ক সামগ্রী দিয়ে তাঁরা পিকনিকের রান্নাবান্না করেন। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ওই যুবকদের মধ্যে চন্দন দাস, শঙ্কর দাসরা জানান,‘আমরা যে সব সামগ্রী ব্যবহার করেছি, সেখানে কোনও প্লাস্টিকের ব্যবহার নেই।
প্লাস্টিকের বিকল্প বলা যেতে পারে এই মাটির সামগ্রী। দামও তুলনামূলক কমই। আমাদের মতো যাতে অন্যরাও এগিয়ে আসে, তাই চাই আমরা।’
আরেক জন পার্থ কুন্ডু বলেন,‘জেলা প্রশাসন থেকে উদ্যোগ নিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না দেখে আমরা নিজেরাই একটু অন্যভাবে প্রচারে এসেছি। এবং মাটির সামগ্রীতে রান্নার স্বাদও আলাদা ধরণের।
পিকনিকে উপভোগ্য ব্যাপার।’ ওই যুবকদের এহেন প্রচারে ভূয়সী প্রশংসা করেন ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহার ঘোষ।
তিনি বলেন,‘খুব ভাল উদ্যোগ যুবকদের। এভাবে অন্যরা এগিয়ে এলে, এরপর আর পিকনিকে কেউ প্লাস্টিক কিংবা থার্মোকলই ব্যবহার করবে না।’
