-প্রায়ই শোনা যায়, মালদা মেডিক্যালের ব্লাডব্যাঙ্কে রক্ত সঙ্কটের কথা। এও শোনা যায় জেলায় রক্তদান শিবিরের সংখ্যা কমে এলে তখন সঙ্কট দেখা যায়। তাই, নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে রক্তদান শিবির করার সিদ্ধান্ত নেন পাত্র সমর মন্ডল। পাশে পান সদ্য বিবাহিত বউ তনুশ্রী দত্ত মন্ডলকেও। রবিবার ছিল তাঁদের বৌভাতের অনুষ্ঠান। সন্ধেয় সেই অনুষ্ঠান।
তার আগে এদিন সকালে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেন তাঁরা। নতুন দম্পতিকে রক্ত দিতে দেখে এলাকার অনেকের কাছেই অবাক লাগে।
সেই সঙ্গে তাঁদের বার্তা, বাড়ির অনুষ্ঠানগুলিতেও যেন তাঁদের মতো রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হলে, জেলায় রক্ত সঙ্কট অনেকটাই দূর করা সম্ভব।
মালদা শহর থেকে খানিকটা দূর বামনগোলা থানা। প্রত্যন্ত এলাকা বলা যেতে পারে।
সেখানকার জয়ন্তী মোড়ের এই দম্পতির এহেন উদ্যোগ দেখে শহরের মানুষেরা অনেকেই স্তম্ভিত।
এদিন নব দম্পতির সঙ্গে রক্ত দিতে এগিয়ে এলেন আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীরাও।
পাত্র সমর বলেন,‘রক্তদান মহান কাজ, তা অনুভব করছি। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে, নিজের বিয়েতে রক্তদান শিবির করার।
সেই হিসেবে আগে থেকেই কার্ডে রক্তদানের ব্যাপারে আত্মীয় স্বজনদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। আমাদের দেখেই অনেকেই এগিয়ে এসেছেন।
কোনও দিন রক্তদান করেন নি, এমনও মানুষ আমাদের দেখে এগিয়ে এসেছেন।’
তিনি আরও বলেন,‘আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
আমরা চাই, আমাদের মতো এরকম পারিবারিক অনুষ্ঠানে রক্তদান শিবির করা হলে, রক্তসঙ্কট অনেকটাই ঠেকানে সম্ভব।’
সদ্য বিবাহিত স্ত্রী তনুশ্রীর বাড়ি কলকাতার সুভাষ গ্রামে।
স্বামীর মুখে রক্তদান অনুষ্ঠানের কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে তিনিও সন্মতি দেন।
বকৌতূহল বাড়ছিল এই দিনটি ঘিরে। বিয়ের দিনের থেকে এই দিনটি নিয়ে তাঁর বেশি উৎসাহ ছিল।
তিনি বলেন,‘মালদার রক্তসঙ্কটের কথা মাঝে মধ্যেই শোনা যায়। আমাদের অনুষ্ঠানে রক্ত দিয়ে মানুষকে সচেতন করাই আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।
পাশাপাশি এই বর্তাও দিয়েছি, এক ইউনিট রক্ত দিলে তা খুব দ্রুত তৈরি হয়ে যায়।
আমাদের কাছে এই দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ এদিন তাঁদের রক্তদান শিবিরটি পরিচালনা করে মালদা ব্লাড আর্মি।
সহযোগিতায় ছিল নতুন আলো।

