ফের ভাটপাড়া পৌরসভায় আজ অনাস্থা আনতে চলেছে তৃণমূল।
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর, অনাস্থা ভোটে বিজেপিকে হারিয়ে ফের পুরসভা দখলের ছক তৈরি তৃণমূলের।
৩৫ আসন বিশিষ্ট ভাটপাড়া পৌরসভায় ২০১৫ নির্বাচনে তৃণমূল পেয়েছিল ৩৪টি আসন।
একটি আসনে জয়লাভ করে সিপিএম CPI (M)।
পরে একজন কাউন্সিলর মারা যাওয়ায় তৃণমূলের কাউন্সিলর সংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৩৩।
লোকসভায় অর্জুন সিং বিজেপি প্রার্থী হয়ে জিতে যাওয়ার পর কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
তৃণমূলের আসনসংখ্যা এসে দাঁড়ায় ৩২। অর্জুন সিংয়ের তৃণমূল ত্যাগের পর ভাটপাড়া পুরসভার অনাস্থা ভোটে ২৩ জন কাউন্সিলর সমর্থন পেয়েছিল তৃণমূল।
সিপিএম সহ বাকি ৯ জন কাউন্সিলর অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে ছিলেন প্রথম থেকে।
অর্জুন সিং লোকসভায় জয়লাভের পর দিল্লি গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের ২৩ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৮ জন কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগদান করেন।
তারপর ফের পাল্টা দলবদল হয়। গত মাসেই ভাটপাড়া পুরসভার দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগদান করা ১৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর এর মধ্যে ১২ জন তৃণমূল ফিরে আসে।
বর্তমান পরিস্থিতি ভাটপাড়া পুরসভার রাজনৈতিক সমীকরণ তৃণমূল ১৭ বিজেপি ১৫। পুর সমীকরণ অনুযায়ী ১৮ জন কাউন্সিলরের সমর্থন থাকলে অনাস্থা ভোটে তৃণমূল জয়লাভ করবে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, তলে তলে আরো বেশ কয়েকজন বিজেপিতে থাকা তৃণমূল কাউন্সিলর অনাস্থা ভোটে তৃণমূলের হয়েই ভোট দেবেন।
পাল্টা বিজেপি শিবিরের দাবি তৃণমূল চলে যাওয়া ১৮ জন কাউন্সিলর মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে আবার অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
ফলে ভাটপাড়া নিয়ে টানাপোড়েন চলছেই। তৃণমূলের কাউন্সিলররা বিজেপিতে যোগদানের পর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ভাটপাড়া পৌরসভা দায়িত্ব অর্জুন সিংয়ের ভাইপো সৌরভ সিং।
নিয়মবিধি অনুসারে কোন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তত ছয় মাসের মধ্যে পুরসভায় অনাস্থা আনা যায় না। আগামী ৬ ডিসেম্বর সৌরভ সিংয়ের ছয় মাসের মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
বেশী সময় নষ্ট না করেই তার পরের দিনই ৭ ডিসেম্বরে ভাটপাড়া পৌরসভা অনাস্থা আনার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে তৃণমূল।
শেষ পর্যন্ত এই হর্স ট্রেডিংয়ের প্রতিযোগিতায় দাঁড়িপাল্লা কার দিকে রাশ বেশি থাকে বিজেপি না তৃনমূল, সেই দিকেই তাকিয়েই রাজনৈতিক মহল।।
