২০ ডিসেম্বর মালদার গ্রামের মানুষ সেই কুসংস্কারের যুগেই পড়ে। এখনও সাপে কাটা রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে নয়, ওঝার কাছে ছুটে যান পরিবারের লোকজন।
এমনকী কানাঘুষোও বন্ধ রাখা হয়। যাতে অন্যরা জানলে হাসপালালে নিয়ে যাওয়া হবে রোগীকে। এমনই ঘটনা মালদা থানার ধূমাদিঘি গ্রামের।
এই শিশুকে সাপে ছোবল মারা হলে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয ওঝার কাছে।
পরের দিন জানাজানি হলে তার প্রায় ২০ ঘন্টা বাদে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় রোগীরে। তখন অনেক দেরি করে ফেলেছে পরিবারের লোকেরা বলে জানান চিকিৎসকেরা।
পরে ওই শিশুর মৃত্যু হয়।
জানা গেছে, মৃত শিশুর নাম শুভম রাজবংশী। বছর নয়েকের ওই শিশুর বাড়ি মালদা থানার ধূমাদিঘি গ্রামে।
বাবা দিলীপ রাজবংশী পেশায় চাষি। একমাত্র সন্তান ছিল শুভম। সে স্থানীয় নার্সারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।
গত মঙ্গলবার বাড়ির উঠানে খামারের কাজ চলছিল। জমিতে এখন আলু লাগানোর কাজ চলছে। তাই তড়িঘড়ি ধান তুলে এনে বাড়ির খামারে রাখার কাজ চলছিল।
ওই দিন রাতেও কাজ হচ্ছিল বাবা এদিকে বাতি লাগানোর ব্যবস্থা করছিলেন। পেছন পেছন যাচ্ছিল ছেলে। ওই সময় তার জান পায়ে সাপে ছোবল মারে।
এদিকে বাবা আশেপাশের কাউকে কিছু না জানিয়ে ওই অবস্থায় ছেলে নিয়ে যায় এক ওঝার কাছে। ওঝার বাড়ি পাশের গ্রাম মহেষকুড়িতে। সেখানে ওঝার কেরামতি চলে।
তারপর বাড়িতেও আনা হয় ছেলেকে। প্রায় ২০ ঘন্টা বাদে বুধবার সন্ধের দিকে ছেলে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে আবার নিয়ে যাওয়া হয় ওঝার কাছে।
ওঝা তখন হাসাপাতালে নিয়ে যাওয়ার উপদেশ দেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শুভমকে মালদা মেডিক্যালে আনা হলে বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু হয়। মৃত শিশুর পিসেমশাই বিনয় রাজবংশী বলেন, ‘আমাদের কাউকে কিছু জানানো হয় নি।
ওর বাবা জোর করে ওঝার কাছে নিয়ে যায়। আমরা পরে জানতে পেরে হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা করি।’
মালদা মেডিক্যালে এমএসভিপি অমিত দাঁ বলেন,‘আমাদের এখানে যখন আনা হয়, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
একদিন বাদে আনা হচ্ছে আমাদের এখানে। গোটা শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়ে ওই সময়ে। সঠিক সময় নিয়ে এলে বাঁচানো সম্ভব হত।’
