যে হারে বিজেপি শাসিত ঝাড়খন্ডে একটির পর একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চলেছিল, তাতে গণতন্ত্র হারাতে বসেছিল সেখানে।
জুন মাস নাগাদ সেই বিজেপি শাসিত ঝাড়খন্ডেই তাবরেজ আনসারিকে চোর সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হয়।
এমনকী ‘জয় শ্রী রাম, জয় হনুমান’ বলতে বাধ্য করা হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা দেশ।
সেই ঝাড়খন্ডেই এবার বিজেপি-কে সরিয়ে ক্ষমতায় এল কংগ্রেস, জেএমএম, আরজেডি জোট। এবার শান্তি ফিরবে ঝাড়খন্ডে বলে আশায় দিন গুণছেন কালিয়াচকবাসী।
এদিন সকাল থেকেই টিভি-তে চোখ কালিয়াচকের মোথাবাড়ি এলাকার মানুষের।
একটির পর আসনে যখন বিজেপি পর্যুদস্ত হচ্ছে, তখনই আনন্দের মাতোয়ারা হতে দেখা গেল বাসিন্দাদের।
এদিন চায়ের ঠেক, দোকান, আড্ডায় একই আলোচনা দেখা গেল। মালদা জেলার পাশার রাজ্য ঝাড়খন্ড। আবার কালিয়াচক থেকে মাত্র ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরেই ঝাড়খন্ড।
আবার মনিকচকে গঙ্গা পেরোলেই ঝাড়খন্ডের রাজমহল। স্বাভাবিকভাবে মালদা জেলার সঙ্গে ঝাড়খন্ডের একটা আত্মীয়ের সম্পর্ক।
ঝাড়খন্ডের রোগীরা চিকিৎসার জন্য মালদার ওপর ভরসা করে থাকেন। সেই ঝাড়খন্ডে বিধানসভা নির্বাচনে যাবতীয় গাড়ি মালদা থেকে তোলা হয়।
কালিয়াচক থেকেই সিংহভাগ গাড়ি পাঠানো হয় ঝাড়খন্ডে। ফলে মানুষের আলোচনার বিষয় সেই ঝাড়খন্ডই।
এদিন মোথাবাড়ি গ্রীন মার্কেটের একটি চায়ের দোকানে টিভি-তে চোখ রাখতে দেখা গেল আতিউর শেখ, রাজু শেখ, তাফাজ্জল হক, আনারুল হকদের।
তাফাজ্জল হক বলেন,‘তাবরেজ আনসারিকে গণধোলাই দিয়ে পিটিয়ে মারা হয়। এই ঘটনার আঁচ আমাদের এখানেও এসে পড়ে। ধর্মীয় কারণে তাঁকে মেরে ফেলা হয়।
সেদিন থেকেই আমরা বিজেপি সরকারের পতন চেয়েছিলাম।
আল্লা মুখ চেয়ে দেখেছে। বিজেপি সেখানে হেরেছে।
এবার সেখানকার মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে। আর কোনও তাবরেজকে নৃশংসভাবে খুন হতে হবে না।’
