গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভর্তি সমস্যা নিয়ে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মালদহ কলেজ অডিটোরিয়ামে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভের মুখে পড়েন উপাচার্য স্বাগত সেন।
উপাচার্যের মানসিকতা ‘নেতিবাচক’ বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী।
একের পর এক বিতর্কের কেন্দ্র এই গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান হাল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে রীতিমতো অসন্তুষ্ট তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে তাঁর অভিব্যক্তিতেই।
এদিন বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণ পরেই গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।
উপাচার্যের কাছে তিনি সরাসরি জানতে চান কতগুলি কলেজ রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে।
উপাচার্য ২৫টি ডিগ্রি কলেজ ও একটি আইন কলেজ রয়েছে জানানোর পরেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘এখানে কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পড়ুয়ারা এত সমস্যায় পড়ছে কেন?’
উপাচার্য প্রাথমিকভাবে বিষয়টি নিয়ে বল ঠেলে দেন রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরের কোর্টে। সভায় উপস্থিত উচ্চ শিক্ষা দফতরের প্রধান সচিব মনীশ জৈনের কাছে বিষয়টি জানতে চান মুখ্যমন্ত্রী।
বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে আসন সংখ্যা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে উচ্চ শিক্ষা দফতরকে বারবার জানানো হয়েছে বলেও দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু তারপরেও বিষয়টি নিয়ে দোলাচল হতে থাকায় উপাচার্য বলেন, তিনি বিষয়টি নিয়ে তাহলে জানেন না।
এরপরেই তাৎপর্য ভাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি এত নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে কথা বলছেন কেন!’
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ওয়াকিবহাল মহল থেকে জানা গিয়েছে। পড়ুয়াদের অসুবিধা নিয়ে যে তিনি আপোষ করবেন না তা এর আগেও বুঝিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
একবার স্নাতক স্তরের পড়ুয়াদের সাইকেল স্ট্যান্ডে বসে পরীক্ষা দিতে হওয়ায় গৌড়বঙ্গের এক প্রাক্তন উপাচার্যকে কার্যত ভরতসনা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে পদত্যাগ করেন ওই উপাচার্য।
মুখ্যমন্ত্রীকে পড়ুয়াদের সমস্যা নিয়ে হস্তক্ষেপ করার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি প্রসূন রায়।
তিনি বলেন, উপাচার্য উচ্চ শিক্ষা দফতরে দেরি করে রিপোর্ট পাঠিয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।
এই রিপোর্ট ওনার অনেক আগেই পাঠানো উচিৎ ছিল। তাহলেই সমস্যা হত না। আমরা খুশি শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হস্তক্ষেপ করেছেন নিষয়টি নিয়ে।
এদিকে জানা গিয়েছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ম প্রণালী নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন মহল থেকে একাধিক নেতিবাচক রিপোর্ট জমা পড়েছে।
সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর অসন্তুষ্টির পরে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সমস্যার সমাধান হয় কিনা তার দিকেই আপাতত তাকিয়ে তিন জেলার শিক্ষা মহল।

