বেআইনি অস্ত্র, জাল নোটের কারবার, গরু পাচারের পর এবার আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারের সাথেও যুক্ত হয়ে গিয়েছে মালদহের নাম।
তবে শুধু মাদক পাচারই নয়, জেলার বেশ কিছু অংশে বিশেষতঃ কালিয়াচকের বিভিন্ন এলাকায় যেভাবে মাদক তৈরি হচ্ছে তা নিয়েও রীতিমতো অবাক জেলা পুলিসের কর্তারা।
তবে যে বিষয়টি পুলিস কর্তাদের বিশেষ করে চিন্তায় ফেলেছে তা হল মাদক কারবারের সাথে মহিলাদের যুক্ত হয়ে পড়া। আগে মূলতঃ মাদক কারবারে পুরুষরাই সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে থাকত।
কিন্তু সম্প্রতি জেলা জুড়ে শুরু হওয়া মাদক বিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন দুইজন মহিলা। স্বাভাবিকভাবেই, পুলিস কর্তাদের ধারণা, বিপুল আর্থিক প্রলোভনের আশায় মেয়েদেরও যুক্ত করছে মাদক কারবারিরা।
পুলিস সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, একথা ঠিক, মেয়েরাও কোনও না কোনও ভাবে মাদক কারবারে সরাসরি জড়িয়ে যাচ্ছে। যারা নিয়মিত এই কারবার করে থাকেন সেই পুরুষরা তাদের পরিবারের মহিলা সদস্যদের এই ধরণের নিষিদ্ধ কাছে যুক্ত করছেন।
বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগের। তবে পুলিস মাদক কারবারের ক্ষেত্রে লিঙ্গ ভেদ দেখবে না। পুরুষ, মহিলা নির্বিশেষে যারাই এই মাদক উৎপাদন, পরিবহণ ও বিক্রিতে যুক্ত থাকবেন তাদের সকলের বিরুদ্ধেই আইন মেনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার কালিয়াচকের সুলতানগঞ্জ এলাকায় সানিউল শেখের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৬৩ গ্রাম ব্রাউন সুগার, ১৯ লক্ষ, ৭০ হাজার ৭৫০ টাকা উদ্ধার হয়।
এই ঘটনায় পুলিস সানিউল শেখের পাশাপাশি গ্রেপ্তার করে তার পরিবারের এক মহিলা সদস্য ফরিদা বিবিকেও। পুলিসের দাবি, মাদক কারবারের সাথে ওই মহিলার যুক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সোমবার সকাল ৭.৩০টা নাগাদ হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার একটি বাজার থেকে বেবি বাগ বলে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিস।
তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় সাত কেজি গাঁজা। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার স্বামী বাবু নাগ আগে মাদক বিক্রি করতেন।
একবার পুলিসের হাতে গ্রেপ্তারও হন। বর্তমানে তিনি পলাতক। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তার মাদক কারবারের হাল ধরেছিলেন ওই মহিলা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মাদক কারবারে অনেক সময় টাকার লোভ দেখিয়ে নাবালক নাবালিকাদেরও যুক্ত করতেন তিনি। তারাও সামান্য অর্থের বিনিময়ে এই মারাত্মক কারবারে কিছু না বুঝেই যুক্ত হয়ে পড়ত।
সব মিলিয়ে যেভাবে মহিলাদের একাংশ এই মাদক কারবারে যুক্ত হয়ে পড়ছেন তা নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হচ্ছে পুলিসকে।
তবে মহিলারা যে এই প্রথম বিভিন্ন বেআইনি কারবারে যুক্ত হচ্ছেন তা মানতে রাজি নন মালদহের এক পদস্থ পুলিস কর্তা।
অতিরিক্ত পুলিস সুপার পদ মর্যাদার ওই আধিকারিক বলেন, এর আগেও আমরা দেখেছি জাল নোট পাচার সহ বেশ কিছু বেআইনি কাজে কয়েকজন মহিলা যুক্ত ছিলেন। তাদের দুই একজনকে আমরা গ্রেপ্তারও করেছি।
এখন আবার নতুন করে এই ট্রেন্ড দেখা দিচ্ছে। তবে পুলিস সুপারের সুরেই তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত যিনিই থাকবেন বলে আমরা প্রমাণ পাব, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি পুরুষ নাকী মহিলা সেটি আমাদের বিবেচ্য নয়।
মহিলাদের মাদক কারবারে যুক্ত করার বিষয়ে বেশ কিছু তত্ত্ব পাওয়া গিয়েছে পুলিস মহল থেকে। উত্তর মালদহের একটি থানার ইনস্পেক্টর ইন চার্জ বলেন, মাদক কারবারিদের ধারণা, মহিলাদের পুলিস সহজে ছোঁবে না।
তাই তারা পালিয়ে বেড়ালেও তাদের পরিবারের মহিলারা অনায়াসে এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবেন।
দক্ষিণ মালদহের কালিয়াচক এলাকার এক পুলিস আধিকারিক বলেন, আমরা অনেক সময় নাকা চেকিং করি। মহিলা পুলিস সব সময় থাকেন না। ফলে সাধারণ জামা কাপড় পড়ে থাকা মহিলাদের অনেক সময় সন্দেহের ঊর্ধ্বে রেখে ছাড় দিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে পুরুষ, মহিলা সকলকেই একইভাবে তল্লাশি করা হবে।
মহিলাদের তল্লাশির ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জেলা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিস সুপার বলেন, এই ধরণের বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে পুলিস এখনও কাজ করে চলেছে। তদন্তের স্বার্থে এই বিষয়ে বিশেষ কিছু বলা সম্ভব নয়।

