তীব্র বেতন বৈষম্য,সীমাহীন বঞ্চনা এবং বিমাতৃসুলভ আচরণের প্রতিবাদে আগামী 7 ও 8 নভেম্বর 2019 কলকাতা গান্ধী মূর্তির পাদদেশে দু'দিনব্যাপী অনশন অবস্থানের ডাক দিয়েছিলেন শিক্ষাবন্ধু যৌথ মঞ্চ।
গান্ধী মূর্তির পাদদেশ কেন্দ্রীয় সরকারের সেনাবাহিনীর এক্তিয়ার ভুক্ত হওয়ার কারণে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আগেই শিক্ষাবন্ধু যৌথ মঞ্চকে পারমিশন দিয়ে দিয়েছিলেন।
কিন্তু লালবাজার পুলিশের পক্ষ থেকে দু'দিনের কর্মসূচির পরিবর্তে একদিন অর্থাৎ 7 নভেম্বর 2019 অনুমোদিত হয়েছে। রাজ্য সরকারের অঙ্গুলিহেলনে কলকাতা পুলিশ এই কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
জেনে রাখা ভালো দীর্ঘ প্রায় 9 বছর হতে চলল শিক্ষাবন্ধু সমাজ এই সরকারের কাছে আবেদন নিবেদন জানিয়ে আসছেন,কিন্তু এই মূক ও বধির সরকার একটি বারের জন্যেও কর্ণপাত করেননি।
ইতিপূর্বে ন্যায্য গণআন্দোলনে রাজ্য সরকারের পুলিশ বিনা প্ররোচনায় আন্দোলনকারীদের রাস্তায় ফেলে লাথি, কিল, চড়, ঘুষি, মহিলাদের শ্লীলতাহানি, বেধড়ক লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, জলকামান সহ মিথ্যা মামলায় শিক্ষাবন্ধু যৌথ মঞ্চের রাজ্য নেতৃত্ব সহ বহু কর্মীকে জেলে পুরে মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন।
অবশ্য রাজ্য সরকার শুধুমাত্র শিক্ষা বন্ধুদের ক্ষেত্রেই এটা করেছেন এমনটি নয়। পার্শ্বশিক্ষক, এসএসকে, এমএসকে, কম্পিউটার শিক্ষক, ভোকেশনাল শিক্ষক, অতিথি শিক্ষক সহ যারাই ন্যায্য দাবিতে রাস্তায় নেমেছেন, প্রত্যেকের উপরেই নেমে এসেছে পাশবিক অত্যাচার।
শান্তিপূর্ণ মিছিল করার অপরাধে শিক্ষাবন্ধু যৌথ মঞ্চের রাজ্য নেতৃত্বকে অন্য কেসের সঙ্গে পর্যন্ত যুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
এখানেই থেমে থাকেননি এই নির্লজ্জ সরকার। এই সরকারের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি পুরো শিক্ষাবন্ধু সমাজকেই ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্মানিত করেছেন।
তাঁর মহান উক্তি- "আমাদের রাজ্যের এস.আই অফিস গুলিতে শিক্ষাবন্ধুরা জুতো, বই-খাতা দেওয়ার কাজ করে।" অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে শিক্ষামন্ত্রীকে, এবং সেইসঙ্গে তার এই কুখ্যাত উক্তি এখনই প্রত্যাহার করতে হবে।
এখানে আরও উল্লেখ্য কিছুদিন আগে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে প্রায় এক মাস ধরে তৃণমূল কংগ্রেস রিলে অনশন চালালেন। কারণ ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন BSNL- কর্মীদের কেন্দ্রীয় সরকার কম টাকা বেতন দেন, তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি ছিল, তাদের কম টাকা বেতন দেওয়া চলবে না।
এখানে মনে রাখতে হবে মমতার মত পোষ্ট গ্রাজুয়েটদের কেন্দ্রীয় সরকার 7000 টাকা বেতন দেন না। তাঁর থেকে অনেকিন্তুক টাকা বেশি দেন। তা সত্ত্বেও মিথ্যা নাটক আমরা এক মাস ধরে দেখলাম।
অথচ গান্ধী মূর্তিতে আমরা মাত্র দু দিন অনশন অবস্থান করতে চেয়েছিলাম কিন্তু এই স্বৈরাচারী সরকার আমাদের মাত্র একদিনের জন্য পারমিশন দিলেন। তাই এর জবাব দেওয়ার জন্য ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষাবন্ধু সমাজ।
আগামী 7 নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) 2019 প্রতিটি শিক্ষাবন্ধু তাঁর সন্তান-সন্ততি ও পরিবার-পরিজনসহ গান্ধী মূর্তিতে উপস্থিত হয়ে তাঁরা তাঁদের হকের দাবি বুঝে নেওয়ার জন্য কোমর বাঁধছেন।





