বিয়েতে পণ দেওয়ার পর আবার পণের দাবি শ্বশুরবাড়ির লোকেদের।
দাবি মতো পণ না দেওয়ায় এক বধূকে শ্বাসরোধ করে মারার অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। বালিশ চাপা দিয়ে মারার পর তাঁকে ফাঁসে ঝোলানো হয়েছে বলে অভিযোগ।
পরে পরিবারের লোকেদের ভয়ে আবার ফাঁস খুলে নীচে বিছানায় রাখা হয়। বিয়ের ৬ মাসের মাথায় বধূ খুনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য।
ঘটনার পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা পলাতক। পুলিশ অভিযুক্তদের খুঁজছে।
মৃত বধূর নাম পারভীন খাতুন(১৫)। কালিয়াচক থানার জালালপুরে তাঁর শ্বশুরবাড়ি। অভিযুক্ত স্বামী মুস্তাকিন শেখ।
পেশায় সে মজুর। পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সন্ধের দিকে ঘটনাটি ঘটে।
পরিবারের লোকেরা খবর পেয়ে ছুটে আসেন মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে।
মেয়েকে বিছানায় ফেলে রাখা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁরা উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যালে নিয়ে আসলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে জানান।
মৃতার বাবার বাড়ি ইংলিশবাজার থানার কমলাবাড়ি যদুপুরে।
৫ বোনের মধ্যে পারভীন ছিল সবার বড়। মাস ছয়েক আগে সম্বন্ধ করে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় শ্বশুরবাড়ির দাবি মতো ১ লাখ টাকা, ১ ভরি সোনা-সহ অন্যান্য সামগ্রী দেওয়া হয়।
তারপরেও ৫০ হাজার টাকার দাবি করে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা।
মৃতার মা রোজিনা বিবি অভিযোগ করে বলেন,‘ঘটনার মিনিট দশেক আগে মেয়ের সঙ্গে ফোনে আমার কথা হয়।
মেয়ে ৫০ হাজার টাকার কথা বলে ফের। টাকা দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় বলে আমি জানিয়ে দিই।
তারপরে কিছুক্ষণ পরেই শুনতে পাচ্ছি মেয়ের মৃত্যুর কথা। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কেউ আমাদের জানায় নি।’ মা আরও অভিযোগ করে বলেন,‘মেয়েকে যে কোনও অছিলায় মারধর করত।
ঘটনার দু’দিন আগেই মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে বুঝিয়ে রেখে আসি। তারপরেই এই ঘটনা।’
কালিয়াচক থানার শ্বশুরবাড়ির লোকেদের নামে মৌখিক অভিযোগ জানানো হয়েছে।
