সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ জনদের সদ্য বিবাহিত নব বধূর সন্তান সন্ততি লাভের আশায় মহা ধুমধাম করে কার্তিক পূজা ও নানান ধরনের পদের খাবার খাওয়ার ও খাওয়ানোর আপ আয়োজন করা হয়ে থাকে পরিবারের সদস্যরা ও প্রতিবেশী দের আত্মীয় স্বজনদের আমন্ত্রণ জানানো হয় কার্তিক পূজার জমজমাট আয়োজনে।
পূর্বে একান্নবর্তী পরিবারে বধুর সন্তান সন্ততি হতে দীর্ঘ সময় লাগলে কয়েক বছর অন্তঃসত্ত্বা না হলে তখন ছেলের বাড়ির লোকজন প্রতিবেশীদের আমন্ত্রণ করতো যে কেউ আমাদের বাড়িতে আর কার্তিক ঠাকুর দিয়ে আসছেনা বা বাড়ির কেউ স্বপ্না দেশ পেলে পুত্র বধুর সন্তান সন্ততি লাভের আশায় তখন প্রতি বেশি পরিজন ঐ বাড়িতে কার্তিক ঠাকুর দিয়ে আসতো চিরাচরিত রীতি নীতি অনুসারে শ্রদ্ধা ভক্তি স্নেহ ভাব ভালো বাসার মাধ্যমে ধুপ ধুনো সাঁক ঝাঁজ ঘন্টা বাজিয়ে ঘটাকরে আতশবাজি ফাটিয়ে ।
বাড়ির গৃহিণী স্বাদের আহ্বান জানিয়ে কার্তিক ঠাকুর কে ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে বধুর সন্তান সন্ততি র ন্যায় পুরোহিত ব্রাম্ভন বাউন ঠাকুরের পরামর্শে পূজানুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। এই কার্তিক পূজার জমজমাট আয়োজনের বেশিরভাগ খরচ পুত্র বধুর বাবার বাড়ির লোকজনকে করতে হয়।
যে বা যারা ঐ বাড়িতে ঠাকুরকে দিয়ে গেছেন তাদের আমন্ত্রণ ও অনুমতি নিয়ে তবেই চার প্রহর বা এক রাতে চার বার ধরে পূজিত হন সাধের কার্তিক ঠাকুর।
যে যার আর্থিক অবস্থা অনুসারে কার্তিক পূজা ও খবার দাবারের আয়োজন করে থাকে।
লুচি ঘুগনি মিষ্টি পায়েস বোঁদে মিহি দানা আয়েসক্রিম কোলড্রিংস আরো অনেক কিছু আবার কেউ খিচুড়ি ভাজা সবজি চাটনি পায়েস মিষ্টি বোঁদে মিহি দানা ।
আর বর্তমান আধুনিক যুগে বিবাহ করে ফেরার পথে গাড়িতেই তুলে দিচ্ছে ছেলের বন্ধু বান্ধবরা বা বিবাহের পর পরই।
অতীতের আর এখন আধুনিক যুগে পরিবেশ পরিস্থিতি কেমন যেন পাল্টে যাচ্ছে। কথা বলতে বলতে স্মৃতি চারণ করলেন হাওড়া জেলার জয়পুর থানার অমরাগড়ি গ্রামের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক রোহিনী মোহন রায় আমাদের প্রতিনিধির কাছে।
এরকমই এক দৃশ্য দেখা গেল চকজনার্দন গ্রামের উত্তর সামুই পাড়ার বাসিন্দা জগন্নাথ সামুই এর বাড়িতে তার পুত্র কয়েক মাস আগে বিবাহ করে তার বন্ধু বান্ধবরা ঠিক ঠাক সুযোগ বুঝে তাদের বাড়িতে কার্তিক ঠাকুর দিয়ে আসে।
এই কার্তিক ঠাকুর পূজা ও অনুষ্ঠান ঘিরে দুই দিন পরে ঘাটে সকল প্রকার যানবাহনে ভিড় উপচে পড়ে। চিরাচরিত রীতি নীতি অনুসরণ ও আধুনিক যুগের মিশ্রণে আলোকসজ্জা আতোসবাজী হরেকরকম খাবার আয়োজন বেশ ভালই জমজমাট।
পর পর তিন বছর ধরে আয়োজন করা হয় বলে জানান সৌরভ রায়।
