মালদা জেলায় মশার আধিক্য নিয়ে রীতিমতো অসন্তুষ্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
যদিও ডেঙ্গির প্রকোপ জেলায় কম, তবুও মশা নিধনে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বললেন জেলা স্বাস্থ্য দুপ্তরকে।
মালদা প্রশাসনিক বৈঠকে এসে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।
তুলনামূলক মালদায় মশার আধিক্য বেশি বলে তিনি জানিয়ে যান। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে বলে যান তিনি। রাজ্যে ডেঙ্গির আক্রমন বেড়েই চলেছে।
সে ব্যাপারে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘এক সময় রাজ্যে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ খুব দেখা যেত। আমরা তখন বিভিন্ন জায়গায় ক্যাম্পও করেছি। এখন ম্যালেরিয়ার আধিক্য আর নেই।
আবার আমাদের এখানে ডেঙ্গির প্রকোপ, পাশাপাশি বিহারে আবার কালাজ্বরের।’
তিনি ম্যালেরিয়ায় মৃত্যুর একটা পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, ৯৬ সালে ম্যালেরিয়ায় মৃত্যু সংখ্যা ছিল ৫৬ জন। সেঠা ৯৯ সালে বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৪৪ জনে। ২০০১ সালে ১৯১ জনের মৃত্যু হয়।
আবার ২০০৩ সালে মৃত্যু হয় ২১৪ জনের। ২০০৫ সালে মৃত্যু সংখ্যা ছিল ১৭৫। এভাবে বাড়তে বাড়তে আবার মৃত্যুর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমতেও শুরু করে।
এবার এ রাজ্যে ডেঙ্গির বাড়াবাড়ির কারণ রয়েছে। সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,‘২৩ জনের যে মৃত্যু হয়েছে, সেটাও হত না।
পুজোর সময় একটু গাফিলতি হয়েছে। সেখানে সেখানে মন্ডপ, আবার গর্তের জমা জল। তুলনামূলক এবার বৃষ্টিও হয়েছে ভয়াভয়।’
ডেঙ্গির প্রতিকার নিয়ে হাসপাতালগুলিকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলেন। তিনি বলেন,‘৯ মাস ধরে আমরা ডেঙ্গি নিয়ে সচেতন করে আসছি।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবার ওপর নজর দিতে হবে। অনেক হাসপাতালেই উন্নত পরিকাঠামো রয়েছে।
কোথাও যেন চিকিৎসায় অবহেলা না হয়। ব্লাড ব্যাঙ্কে পর্যাপ্ত রক্ত রয়েছে।
অ্যালাইজা প্রক্রিয়ায় পরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে।
১০ মাস ধরে বিজ্ঞাপন দিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে মানুষকে।আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে।’ এদিকে এ জেলায় তুলনামুলক মশার মারাত্মক উৎপাতের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন,‘আমি মহানন্দা ভবনে গিয়ে দেখি খুব মশার উৎপাত।
মশার উৎপাতে আমি চাও খেতে পারলাম না। পাশেই মহানন্দা রয়েছে, তাই হয়ত মশার এত আধিক্য।
কিন্তু ওই এলাকায় তো মানুষেরাও বাস করেন। সামনেই শীত আসছে।
একটু সতর্ক থাকতে হবে।’ মশার উৎপাত কমাতে আমাদের একটা আলাদা পন্থা বের করতে জেলা স্বাস্থ দপ্তরকে নির্দেশ দিয়ে যান তিনি।
