দক্ষিণ দিনাজপুর,১নভেম্বর;
দীর্ঘ সময় ধরে পায়ে ঘা ব্যাধি নিয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করে রাস্তার ধারে এক ব্যাক্তি পরে থেকে সাহায্যের প্রার্থনা করেও এগিয়ে আসেনি কেউ।
অবশেষে ফের মানবিক মুখ দেখালো পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর থানার শিববাড়ি বানগর এলাকায় থেকে আইসির কাছে টেলিফোনে খবর পৌছাতেই তিনি পুলিশ অফিসার পাঠিয়ে ওই অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। শুরু হয় চিকিৎসা ।
পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে মানবিক দিক বলেও একটা ব্যাপার রয়েছে তাই এমন কাজ করতে এগিয়ে আসা হয়েছে।
পুলিশের এমন কাজকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সকলেই।
গঙ্গারামপুর থানা সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি ফোন আসে যে গঙ্গারামপুর থানার শিববাড়ি বাণগড় এলাকায় অসুস্থ অবস্থায় এক ব্যক্তি ডান পায়ের ব্যথা নিয়ে চিৎকার করছে।
কিন্তু রাস্তা দিয়ে অনেকেই তা দেখলেও মুখ রুমাল, নাক কাপড় ঢেকে চলে যাচ্ছে।
থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুমার কুন্ডু সেই বিষয়টি জানার পরেই থানার কর্তব্যরত অফিসার দেব মাল্য মিত্রকে নির্দেশ দিয়ে পাঠান যে, তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার জন্য।
আইসি নির্দেশ পাওয়ার পরেই অফিসার দেব মাল্য মিশ্র, সিভিক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ওই ব্যক্তিকে গঙ্গারামপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম নিতাই হালদার (৫২)বছর। তার বাড়ি গঙ্গারামপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব হালদারপাড়ায়। দিনমজুরি কাজ করে কোন মত সংসার চলে তার।
হঠাৎ করে তার ডান পায়ে আঙ্গুলে ঘা হয়ে যায়। কয়েকটি আঙুল তার পা থেকে খুলে পরার মত অবস্থা তৈরি হয়েছে। পা দিয়ে দুর্গন্ধ বের হয়েছে। কাজ করা তো দূরের কথা হাঁটতে পারে না বললেই চলে।
প্রচন্ড ব্যাথায় শিববাড়ি বাণগড় এলাকায় শুয়ে থেকে চিৎকার চেঁচামেচি করে রাস্তার ধারে পড়ে ছিল । সাহায্য চাইছিল যেন তাকে বাঁচানো হয়।
হাসপাতালে ওই ব্যক্তিকে ভর্তি করার পরে থানা এএসআই দেব মাল্য জানিয়েছেন, আইসি সাহেবের নির্দেশ পাওয়ার পরই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমার মনে হয় এটাও আমাদের একটা কাজের মধ্যে পড়ে।
গঙ্গারামপুর থানার আইসি পূর্ণেন্দু কুমার কুন্ডু জানিয়েছেন, খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঔষধ পত্র সহযোগিতা না করলেও থানায় খবর দিন আমরা পরিষেবা দেব তাদের।
থানা পুলিশের এমন কাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে অসুস্থ ব্যক্তির স্ত্রী জানিয়েছেন, স্বামী অসুস্থ, মাথা ঠিক নেই। চিকিৎসা করানোর মত পরিস্থিতি নেই।
সংসার বাঁচাতে নিজে এক পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালায়।
উনি যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যায় সেটাই চাই।
গঙ্গারামপুর থানা পুলিশের এমন কাজে এলাকাবাসী থেকে শুরু করে শহরবাসী সকলে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

