এগারোতে যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন, দীর্ঘ আট বছর ধরে তিনি তাদের ঘরে বিজয়-দশমীর বিসর্জনের বাজনা বাজিয়ে চলেছেন।
ঘরের মেয়ে উমার মত বোধনের মধ্য দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে ক্ষমতায় আসীন করেছিলেন বাংলার মানুষ।
মমতার সেই বিজয় রথে সামিল হয়েছিলেন বাংলার আপামর জনসাধারণ।
শামিল হয়েছিলেন কৃষক, শ্রমিক, ক্ষেতমজুর, প্রান্তিক চাষী, ভাগচাষী সহ প্রায় সমস্ত সম্প্রদায়েরই মানুষ।
সরকারি কর্মচারীদের একটা বড় অংশও সওয়ারি হয়েছিলেন তাঁর বিজয় রথে।
পূর্বতন বাম আমলের দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটবে এই আশায় বুক বেঁধে রাজ্য সরকারের অস্থায়ী এবং স্থায়ী কর্মচারীদের একটি বড় অংশও মমতার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন।
সর্বশিক্ষা মিশনের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রায় 98 শতাংশ মানুষের সমর্থন ছিল তাঁর সঙ্গে।
শিক্ষাবন্ধু, পার্শ্বশিক্ষক, এস.এস.কে, এম. এস.কে, এ.এস, অতিথি শিক্ষক, কম্পিউটার শিক্ষক, কারিগরি শিক্ষক, রন্ধন কর্মী, আই.সি.ডি.এস সহ প্রায় প্রতিটি সেক্টরের সমস্ত কর্মচারীবৃন্দই তাঁর আশীর্বাদের থালা ভরিয়ে দিয়েছিলেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তাদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তিনি ক্ষমতায় আসার তিন মাসের মধ্যে যাবতীয় বঞ্চনার অবসান ঘটাবেন।
অথচ এক সময় যারা তাকে বোধনের মধ্য দিয়ে মাতৃরূপে ক্ষমতায় আসীন করেছিলেন, আজ তিনি ক্ষমতায় আসীন হয়ে তাদের ঘরে দীর্ঘ আট বছর ধরে বিসর্জনের বাজনা বাজিয়ে চলেছেন।
উপরোক্ত কর্মচারীদের প্রায় সকলেরই আজ নিদারুণ অবস্থা। এঁদের মধ্য সবচেয়ে করুন অবস্থা শিক্ষাবন্ধু সমাজের।
শিক্ষাবন্ধু সমাজের যন্ত্রণার ফাইল নয় নয় করে বহুবারই তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কিন্তু আজ পর্যন্ত তিনি শিক্ষাবন্ধুদের পাশে এসে দাঁড়াননি। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশিত "সমকাজে সমবেতন" নীতিকেও অগ্রাহ্য করছেন তিনি।
রাজ্যের কর্ণধার ও মমতাময়ী মা হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে উপরোক্ত কর্মচারীদের বিষয়ে শেষবারের মত একবার ভেবে দেখার অনুরোধ রইলো।




