উঃ দিনাজপুর,
পূর্ব বাংলার রিতী মেনে প্রতিবারের মতো এবারেও লক্ষ্মীপূজোর মেলাকে কেন্দ্র করে চরম ব্যস্ততা উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের টেনহরি গ্রামে কোজাগরী লক্ষ্মীপজো।
আর সেই উপলক্ষে রায়গঞ্জের ১০নং মাড়াইকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের এই টেনহরি গ্রামে লক্ষ্মীপূজোয় বসে বিরাট মেলা।
কোজাগরী পূর্ণিমা তিথি থেকে টানা তিন দিন ধরে চলে এই মেলা। এবারেও রবিবার থেকে টেনহরির হাটখোলা মাঠে তিনদিন ব্যাপী চলবে মেলা।
তবে এই মেলায় শুধু রায়গঞ্জেরই নয়, নাগর ও কুলিক নদী পেরিয়ে বিহার থেকেও বহু মানুষ আসেন।
গ্রাম বাসীদের মতে, বাংলাদেশের রিতি মেনে চলে আসা এই পূজো শতাব্দী প্রাচীন।
আগে ওপার বাংলার ঢাকার বাওয়ালবাড়ীয়া গ্রামের দাস বংশের মানুষেরা এই পূজো করতেন।
এরপর পূর্ববঙ্গ ছেড়ে এপারে এসে টেনহরিতে বাসা বাধলে দাস বংশ জাতরা এই টেনহরি গ্রামেই লক্ষ্মী পূজো শুরু করেন।
এপার বাংলায় আসার পর বংশ পরম্পরায় প্রায় কয়েক দশক ধরে পূজো করে আসছেন বলে জানায় গ্রামের মানুষেরা সব মিলিয়ে দাসেদের এই পূজো প্রায় তিনশো বছরের পূরোনো।
গ্রামের প্রত্যেকেই দাস বংশজাত এবং সবাই কৃষি ও গৃহস্থালির কাজ করেন।
তাছাড়া টেনহরি গ্রামকে রায়গঞ্জের সবজীর ভান্ডার বলা হয়। আর সেই কারনেই পূর্বপুরুষেরা মা লক্ষ্মীর আরাধনা শুরু করেন বলে জানান গ্রামের মানুষেরা।
তবে গ্রামের সব ঘড়েই পূজো হলেও নানান অলংকার দিয়ে সাজানো প্রায় ১১ফুট লম্বা ও ৯ফুট চওড়া মাটির প্রতিমায় সর্বজনীন পূজোর আয়োজন হয়।
এদিন টেনহরি গ্রামে গিয়ে সেই মেলার প্রস্তুতি চোখে পড়লো। বর্তমানে গ্রামের লক্ষ্মী মন্দিরটি টেনহরির জুনিয়ার হাই স্কুলের মাঠে থাকায় মেলা হয় হাটখোলা মাঠেই।
পূজোর কদিন গ্রামের মানুষের নিরামিশ খাওয়ার রীতি আছে। গ্রামে বাসিদের মুখে শোনা গেলো প্রতিবারের মতো এবারেও এই মেলার শেষের দিন সন্ধ্যেই বিরাট আতসবাজীর প্রদর্শনী হবে।
আগে এখানেই বাজী তৈরীর কারিগরেরা এসে আতসবাজি তৈরী করতেন কিন্তু এখন তা আর হয়না। তবে হরেকরকমের মিষ্টি হল এই মেলার বিশেষ আকর্ষন।
জিলিপি, রাজভোগ, গজা, খাজা তার সঙ্গে কমলাভোগ, ভুনো সন্দেশ, রাবড়ীর টানে বহু মানুষ ছুটে আসেন এই মেলায়। ইতিমধ্যেই এই মেলা দেখতে গ্রামের প্রতিটি বাড়ীতে আত্মীয়রা আসতে শুরু করে দিয়েছেন।
এদিকে টেনহরির এই মেলায় কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি নজরদারীর কোনো ত্রুটি থাকে না।

