মালদা:
বাবা রিক্সা ভ্যান চালক ও মা গৃহবধূ । আর্থিক অনটনের মধ্যে ও জনপ্রিয় ফুটবল খেলার মাধ্যমে ফুটবল বিশ্ব জয় করার স্বপ্নে বিভোর তরুণ রাহুল সেখ ।
তাঁর ঘরবাড়ি কাঁচা ও টালির। বৃষ্টি হলেই তাঁর ঘরে জল পড়ে ।
তাদের এক চিলতে ছোট বাড়িতে দিন আনি দিন খায় অবস্থা । সকাল সন্ধ্যা প্র্যাকটিস চলে তার । এই ফুটবল নিয়েই রাজ্য ও দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে উড়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে রাহুল সেখ।
সম্প্রতি আন্ত জেলা ফুটবল টুর্নামেন্টে রাজ্য সেরা ফুটবলের তকমা পেয়েছে ।
মালদা ডিএসএ মাঠে পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া সহ একঝাঁক অতিথি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ।
মালদার ইংরেজ বাজার ব্লকের মিলকী গ্রামপঞ্চায়েতের শ্যামপুর কলনীর ছেলের স্বপ্ন এখন ভারতীয় দলে জায়গা করে নেওয়ার সংকল্প তার । প্র্যাকটিসকে হাতিয়ার করে এগিয়ে যেতে চাইছে রাহুল ।
ছোট থেকেই রাহুল ফুটবল খেলা প । ফুটবল খেলতে খুব ভালোবাসে ও এলাকার মিলকী হাইস্কুলের মাঠে নিয়মিত চর্চা করে ।
জেলা ও রাজ্যের বহু জায়গায় ফুটবল খেলে ইতিমধ্যে নজর কেড়েছে রাহুল ।
রাহুলের ফুটবল খেলা দেখে অত্যন্ত খুশি হন পুলিশ অফিসাররা । সেই থেকে তাকে প্রায়শই প্রতি মাসে খেলার উন্নয়নে ও সুবিধার জন্য 2000 টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেন।
দুই পুলিশ অফিসার । রাহুলের বাবা ইদুয়া সেখ রিক্সা ভ্যান চালক ও মা সায়েরা বিবি গৃহবধূ । ১৯৮৫ সালে কালিন্দী নদীর ভাঙনে কলনীতে বসতি স্থাপন করেন ।
গরীব পরিবার ।এখন রাহুল ভবানীপুর মডেল হাই মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণীতে পড়ে ।
দুঃস্থ পরিবারে বেড়ে ওঠা রাহুল মিলকী ফুটবল এসোসিয়েশন এন্ড লাইব্রেরি তরফে জুনিয়র জুনিয়র ফুটবল টিম থেকে খেলার জীবন শুরু করে । স্কুল গেমস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার অনুর্ধ ১৪ বছর ফুটবল টুর্নামেন্টে ছত্তিশগড়ে ফুটবল খেলে ।
পরবর্তী ২০১৭ সালে জম্মু এন্ড কাশ্মীরে পাঁচ দিন ব্যাপী টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে । ৬৩ তম ন্যাশনাল স্কুল ফুটবল চ্যাম্পিয়ন টুর্নামেন্টে খেলা দেখে নজরে পড়ে যায় কোচের এবং বেঙ্গল দলের হয়ে খেলো ইন্ডিয়া খেলতে দিল্লি যায় ।
দিল্লিতে ও নজরে পড়ে ও এশিয়া কাপ খেলার জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে কানপুরের খেলার মাঠে সিলেকশন ট্রায়ালের জন্য ডাক পায় রাহুল। তবে সেখানে তিনটি গোল করে ও অল্পের জন্য দল থেকে ছিটকে যায় রাহুল ।
সম্প্রতি কোলকাতা থেকে রাহুলকে প্রশিক্ষণের জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছে ।
বেঙ্গল ফুটবল কোচ রাহুলকে কোলকাতায় ডেকে পাঠিয়েছেন বলে জানান ভবানীপুর মডেল হাইমাদ্রাসার ক্রীড়া শিক্ষক সৈয়দ হাসানুজ্জামান। ফুটবলের বেঙ্গল কোচ অনন্ত ঘোষের উদ্যোগে প্রশিক্ষণরত ।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে কোলকাতার খড়দাতে একমাসের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সে । পারিবারিক কোচ হাসানুজ্জামান বলেন, রাহুল একজন প্রতিভাবান ফুটবলার ।
সে অত্যন্ত গরীব । আর্থিক প্রতিকূলতা রয়েছে তার । সরকারের কোন আর্থিক সহযোগিতা ও সুবিধা পেলে ও ফুটবল খেলায় আরো উৎসাহ তৈরী হবে তার ।
ছোট থেকেই আমি ওকে কোচ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি । কেন্দ্রের মোদি সরকারের দিল্লিতে খেলো ইন্ডিয়াতে, কাশ্মীর , কানপুর, কোলকাতা, গয়া প্রভৃতি স্থানে খেলার মাধ্যমে দর্শকদের নজর কেড়েছে ।
ভারত সরকার খেলো ইন্ডিয়ায় সংশ্লিষ্ট দফতরের শংসাপত্র পায় রাহুল ।
রাজ্যে ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ফুটবল খেলার শিরোপা হিসেবে তার ঝুলিতে হাফ ডজন শংসাপত্র রয়েছে।
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোগে ওয়াই ডিপি ট্যালেন্ট হান্ট কাপ 2018 অংশগ্রহণ করে।
তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলার রাহুল শেখ জানান, আমি ফুটবল খেলতে খুব ভালো বাসি ।
মা বাবা ও খেলতে উৎসাহ প্রদান করেন। খেলায় খুশি হয়ে গরিব হওয়ায় দুই পুলিশ বাবু আমাকে দুই হাজার টাকা করে মাসে দেন। যাতে আমি ফুটবল খেলাধুলা ও উন্নতিলাভ করে স্বচ্ছন্দ বোধ করি।
আমার ইচ্ছা রয়েছে দেশের হয়ে ফুটবল খেলার । বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে ভারতবর্ষ গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করবে ভবিষ্যতে ।
এদিকে মালদা ডিএসএ এর সম্পাদক শুভেন্দুে চৌধূরী বলেন, অনুর্ধ ১৮ বছরের ক্রীড়ায় রাজ্যে নজর কেড়েছে রাহুল।
মালদা দল গোটা রাজ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আর সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছে মালদা দলের রাহুল সেখ । তাকে স্মারক উপহার ও শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে । সে জেলার গর্ব ।

