দলের ব্লক কমিটিগুলি পুনর্গঠিত হতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন মালদহের জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মী ও সমর্থকরা।
সেই ক্ষোভের কথা কানে যায় শাসক দলের রাজ্য নেতৃত্বেরও। পরবর্তীতে নবগঠিত ব্লক কমিটিগুলিকে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই স্থগিতাদেশ জারী করেছিলেন তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব।
এবার নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ভিন্ন আঙ্গিকে রাজ্যের অন্যান্য জেলার সঙ্গে মালদহেও নতুন আঙ্গিকে কমিটি তৈরি করা হচ্ছে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।
ব্লক কমিটির পরিবর্তে এবার বিধানসভা ভিত্তিক কমিটি গঠন করতে চলেছে শাসকদল। পুজোর মরসুমের মধ্যেই অথবা পুজোর মরসুম শেষ হওয়ার অব্যবহিত পরেই এই নতুন ধাঁচের কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিধানসভা ভিত্তিক কমিটি গঠন ও ঘোষণার পুরোটাই কেন্দ্রীয়ভাবে হবে বলেও তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার দাবি। তিনি বলেন, ব্লক ভিত্তিক কমিটি এবং বিধানসভা ভিত্তিক কমিটির কাঠামোর কিছু সুনির্দিষ্ট ফারাক রয়েছে। ব্লক স্তরে কমিটির দায়িত্বে থাকেন একজন সভাপতি বা সভানেত্রী।
কিন্তু বিধানসভা ভিত্তিক কমিটির নেতৃত্ব দেবেন একজন করে চেয়ারম্যান বা চেয়ারপার্সন।
বিধানসভা ভিত্তিক কমিটি গঠনের সুবিধা ব্যাখ্যা করে দলের ওই গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় একটি বিধানসভা কেন্দ্রে একাধিক ব্লকের অংশ যৌথভাবে রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ডিলিমিটেশনের কারণেই এমন ভাবে বিধানসভা কেন্দ্রগুলির মানচিত্র নিরূপিত হয়। যেমন ধরা যাক ইংলিশবাজার ব্লকের মধ্যে অন্তত তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রের অংশ রয়ে গিয়েছে।
মিল্কি, শোভানগর যেমন মাণিকচক বিধানসভায় পড়ে তেমনই নরহাট্টা অঞ্চলটি পড়ে মালদহ বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। ফলে এইসব ক্ষেত্রে কর্মীদের মধ্যে কোন বিধানসভার প্রার্থীর হয়ে কাজ করবেন বা কী স্থানীয় ইস্যু প্রচার করবেন তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়ে থাকে সাধারণত।
প্রত্যেক ব্লক সভাপতিই চান দলীয় কর্মীরা অন্যান্য বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হলেও তাঁরা যেন মূল বিধানসভা কেন্দ্রেই প্রচভার চালান। এই ধরণের সংশয় বা সমস্যা কাটাতেই বিধানসভা ভিত্তিক কমিটি গঠন নির্বাচনের রণকৌশল হিসাবে অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত বলেও দাবি করেছেন শাসক দলের রাজ্য পর্যায়ের ওই গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
তৃণমূল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, শাসক দলের কর্পোরেট ভোট ম্যানেজার প্রশান্ত কিশোর এই বিধানসভা ভিত্তিক কমিটি গঠনের উপরেই জোর দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রায় সহমত তৃণমূল নেতৃত্বও।
অন্যান্য জেলাতেও একই ধরণের কমিটি ঘোষণা করা হলেও মালদহের ক্ষেত্রে বিষয়টিকে একটু আলাদা ভাবেই দেখছে দল। গত বহরের পঞ্চায়েত নির্বাচন ছাড়া অন্যান্য নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য মালদহে পায় নি তৃণমূল।
অন্যান্য দলের বিধায়ক বা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পরবর্তীতে তৃণমূলে যোগ দিলেও শাসকদল নইজের জোরে পঞ্চায়েত ছাড়া অন্যান্য নির্বাচনে সেইভাবে জিতে আসতে পারে নি।
মৌসম নুর জেলা সভানেত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরে ব্লক কমিটি পুনর্গঠন করলেও তা নিয়ে যথেষ্ট ক্ষোভ বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তাই এবার সম্পূর্ণ নতুন ছকে এই বিধানসভা ভিত্তিক কমিটি ঘোষণা করতে চলেছে শাসক দল।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বিধানসভা ভিত্তিক কমিটির মাথায় যাঁকে চেয়ারম্যান বা চেয়ারপার্সন হিসাবে বসানো হবে তাঁকে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হবে।
এক তৃণমূল নেতা বলেন, দল যে ভাবে বিধানসভা ভিত্তিক কমিটি গঠনের দিকে এগোচ্ছে তাতে ধরেই নেওয়া যেতে পারে সামান্য কয়েকটি ব্যতিক্রম ছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই কমিটিগুলির চেয়ারম্যান বা চেয়ারপার্সনরাই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সংশ্লিশষ্ট কেন্দ্রে শাসকদলের মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে থাকবেন।
মালদহে অন্তত তিনটি বিধানসভা ভিত্তিক কমিটি গঠনের প্রাথমিক কাজ প্রায় শেষ বলেও শাসকদল সূত্রে জানা গিয়েছে। নির্বাচিত বিধায়কদেরই ওই কমিটিগুলির চেয়ারম্যান বা চেয়ারপার্সন পদে বসার সম্ভাবনা প্রবল বলে জানা গিয়েছে।
তৃণমূলের জেলা সভানেত্রী মৌসম নুর অবশ্য এই বিষয়ে খোলাখুলি মন্তব্য করতে চান নি।
তিনি বলেন, দলের সাংগঠনিক ও আভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে জনসমক্ষে মন্তব্য করতে চাই না। তবে যে ধাঁচেই সংগঠন তৈরি করা হোক, তার সুফল নির্বাচনে তৃণমূলই পাবে।
