উঃ দিনাজপুর।
আসছে বছর আবার এই আওয়াজ তুলে দশমির দিনে দেবী দূর্গাকে এক বছরের জন্য কৈলাশে পাঠিয়েছে আপাময় বাঙালী।
আর প্রায় এক বছর বাকি থাকতে আগামী বছরের দূর্গাপূজোর চাঁদার প্রস্তুতী শুরু করে দিলো উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ শহরের বিবেক সংঘ।তাদের পূজা আগামী বছরে সুবর্ন জয়ন্তী বর্ষ পদার্পন করবে।
পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দাদের আর্থিক সঙ্গতির কথা চিন্তা করে চাঁদা সংগ্রহের ব্যাপারে ক্লাবের পক্ষ থেকে অভিনব এক পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে।
ক্লাবের সদস্য তথা পাড়ার বাসিন্দারা সিদ্ধান্ত নিয়ে এলাকার প্রতিটি বাড়িতে একটি করে লক্ষীর খুটি (pigi bank) সরবরাহ করছে। সাথে প্রতিটি পরিবারকে অনুরোধ করা হচ্ছে, দৈনন্দিন বাজার খরচ থেকে উদ্বৃত্ত পয়সা সেখানে জমা করতে।
এতে আগামী দূর্গাপূজোর সময় মোটা চাঁদা তারা দিতে পারবেন। পাশাপাশি বাসিন্দাদেরও কোনও আর্থিক চাপ পড়বে না।
এলাকার বাসিন্দারাও এই পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়েছে।
রায়গঞ্জ শহরের অন্যতম প্রাচীন ক্লাব " বিবেক সংঘ" ।
আগামী বছর তাদের ক্লাবের দূর্গোৎসবের ৫০ তম বর্ষ ( সুবর্ন জয়ন্তী) উদযাপন।
তাই ক্লাবের কর্তৃপক্ষরা এক বছর আগের থেকেই প্রায় ১০০ টির বেশি লক্ষ্মীর খুঁটি পাড়ার বাসিন্দাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসলেন।
আগামী বছর তাদের ক্লাবে ৫০ তম বর্ষ। তারা জাঁকজমকভাবে পূজো করার পাশাপাশি বেশকিছু সামাজিক কার্যকলাপ কর্মসূচী হাতে নিয়েছে বিবেক সংঘ।
সেজন্য প্রয়োজন একটা বড় বাজেটের। সেই বিগ বাজেটের টাকা জোগাড় করতে যাতে এলাকার বাসিন্দাদের উপরে চাপ না পরে সেকারনেই এক বছর আগেই বাড়ি বাড়ি টাকা জমানোর মাটির খুঁটি বিতরণ করল ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
প্রতিদিন যাতে ওই লক্ষ্মীর খুঁটিতে যে যেমন পারবেন তেমন কিছু কিছু টাকা পয়সা জমিয়ে সামনের পূজোর আগে ক্লাব কর্তৃপক্ষের হাতে তা তুলে দেবেন।
পুজোর সময় চাঁদা দিতে তাদের কোন অসুবিধা না হয় বলে এমনই উদ্যোগ নিয়েছে বিবেক সংঘ ক্লাবের সদস্যরা।
তপতী দাস নামে এক ক্লাব সদস্যা জানিয়েছেন, আগামী বছর ক্লাবের সুর্বন জয়ন্তী উদযাপন ও দুস্থদের বস্ত্রদান, প্রতিবন্ধী মানুষদের সাহায্য সহ একাধিক সামাজিক কর্মসূচী গ্রহন করেছি।
চাঁদা দিতে গিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের আর্থিক সঙ্গতির কথা চিন্তা করে ক্লাবের পক্ষ থেকে অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে পাড়ার এক গৃহবধূ দীপিকা কর ও টুকাই দে জানিয়েছেন, এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন বিবেক সংঘ ক্লাবের আগামীর বছর সুর্বন জয়ন্তী সেই জন্য ক্লাব সদস্যারা এসে একটি করে লক্ষ্মীর খুঁটি দিয়ে গেলেন পাশাপাশি ক্লাব সদস্যরা বলে গেলেন এই খুঁটির মধ্যে প্রতিদিন কিছু কিছু করে টাকা পয়সা রাখতে বললেন।
যাতে তাদের আগামী বছর চাঁদা দিতে কোন সমস্যা না হয়। তারা যেন আগামী বছর ভালো করে পুজো করতে পারে।


