মালদহ ঃ
সুরের ও তালের দেশ ভারতবর্ষ। সুপ্রাচীন কাল থেকেই অসুরের বিরুদ্ধে সুরকেই হাতিয়ার করেছেন এ দেশের নাগরিকরা।
এবার এই সুর ও সুরের মূর্ছনা তোলা বিভিন্ন যন্ত্রের তালে মালদহের মন ভরানোর অভিনব বিষয়কেই হাতিয়ার করে চমক দিতে চাইছে মালদহ শিবাজি সংঘ।
পাশাপাশি আলোকসজ্জায় থাকছে মহাকাশ অভিযানে দেশের সর্বশেষ অভিযানও। সব মিলিয়ে এবারও দুর্গা পুজোয় দর্শক টানতে সৃষ্টিশীলতাকেই কাজে লাগাতে চাইছেন বুড়াবুড়িতলার এই বিখ্যাত ক্লাব।
যাঁর মাথাতে এই বিষয়টি প্রথম আসে মালদা শিবাজি সংঘের সেই অন্যতম কর্মকর্তা হেমাঙ্গ মোহন সরকার বলেন, মা দুর্গা ও মহিষাসুরের দ্বন্দ্ব আসলে সুর ও অসুরের চিরায়ত দ্বন্দ্ব।
আমরা এই বিষয়টিকেই এবার ৪৩তম বর্ষে এক নতুন মাত্রা দিতে চেয়েছি দেশের ধ্রুপদী সঙ্গীত ও সুরের ঐতিহ্যকে মাথায় রেখে।
হেমাঙ্গবাবু জানান, ভারতীয় যন্ত্র সঙ্গীতের প্রায় সব উপকরণই দেখতে পাওয়া যাবে শিবাজি সংঘের এবারের পুজো মণ্ডপে। হারমোনিয়াম, তবলা, সেতার, সন্তুর, মাদল, জলতরঙ্গ, ঢোল, খোল, খঞ্জনি সহ প্রায় সব কিছুর দেখা পাওয়াই নয় শোনা যাবে এগুলির সুরের মূর্ছনাও।
পুজোর বাজেট প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা। উদ্বোধন হবে ২ অক্টোবর।
ক্লাব কর্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, আলোক সজ্জায় ফুটে উঠবে ভারতের সাম্প্রতিকতম চন্দ্রাভিযানের বিভিন্ন দৃশ্য।
ফলে তাঁদের বিশ্বাস, এবার জনজোয়ারের বিচারে বাজীমাৎ করবে মালদা শিবাজি সংঘ।
মা দুর্গার ঐশী শক্তির অভিনব প্রকাশ দেখা যাবে মালদহ কৃষ্ণকালীতলা কল্যাণ সমিতি ও গ্রন্থাগারের পুজো মণ্ডপে।
গত বছর মৌমাছির জীবনচক্র ও মধু উৎপাদনের বিশদ পদ্ধতি ও প্রাসঙ্গিক বাস্তবোচিত পরিবেশ তৈরি করে সকলের নজর কেড়েছিলেন এই পুজোর উদ্যোক্তারা।
এবার তাঁদের থিম ‘অনন্ত দর্শন’।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে মানস সরকার বলেন, মা দুর্গা আসলের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য সব দেব দেবতার একীভূত প্রকাশ।
তাঁর মধ্যে অনন্ত দৈব শক্তির অপরাজেয় প্রকাশ। আমরা এবার মন্ডপ থেকে আলোকসজ্জা সব কিছুর মাধ্যমেই এই বিষয়টিকে তুলে ধরতে চেয়েছি।
চিরায়ত ও লোকায়ত বিশ্বাস অনুযায়ী হিন্দু সমাজের বিভিন্ন অংশের শাশ্বত ধর্ম বিশ্বাসের এক সম্মিলিত রূপই এবার আমাদের প্রয়াস বলে জানান তিনি।
এই অভিনব থিম যাঁর মাথাতে এসেছে ক্লাবের সেই অন্যতম কর্মকর্তা বুবাই দাস পেশায় স্থাপত্যশিল্পী।
তাঁর এই থিমের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই প্রতিমা নির্মাণ করছেন মৃৎশিল্পী দিব্যেন্দু সাহা। ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক স্বপন পাল ও বিমল সরকার বলেন, এবার তাঁদের পুজোর বাজেট প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। উদ্বোধন হবে ৩ অক্টোবর মহাপঞ্চমী তিথির সন্ধ্যায়।
সব মিলিয়ে কৃষ্ণকালীতলা থেকে বুড়াবুড়িতলা পর্যন্ত নতুন সব থিম ও ধারণাকে সামনে রেখে আমজনতার নজর কাড়তে তৈরি মালদহের বিভিন্ন পুজো উদ্যোক্তারা।

