মালদা।
ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যু দিবস ও বরকত গনিখানের জন্মদিনে বামেদের আমন্ত্রণপত্র পাঠালো জেলা কংগ্রেস। তবে আমন্ত্রণের চিঠি এখনও হাতে পান নি বলে জানিয়েছেন সিপিএমের জেলা নেতৃত্ব।
আমন্ত্রণ পেলে তার সম্মান রাখার চেষ্টা করতে তাঁরা চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র।
এদিকে বামেদের বিশেষত সিপিএমকে ইন্দিরা গান্ধীর ৩৫তম প্রয়াণ বার্ষিকীতে কংগ্রেস আমন্ত্রণ জানানোয় জেলার রাজনীতিতে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে জেলার দুই পুরসভার নির্বাচনে আসন বণ্টন কিংবা জোট করে নির্বাচনে লড়াই করার প্রাক প্রস্তুতি হিসাবেই এই আমন্ত্রণ কিনা তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩১ অক্টোবর ইন্দিরা গান্ধীর প্রয়াণ দিবস পালনের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা কংগ্রেস। শহীদ বেদীতে মাল্যদান, রোগীদের মধ্যে ফল ও খাওয়ার প্যাকেট বিতরণের পাশাপাশি স্মৃতিচারণ করা হবে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর।
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মোস্তাক আলম জানিয়েছেন, বামদলগুলিকে একই সঙ্গে ইন্দিরা গান্ধীর প্রয়াণ দিবস পালন ও বরকতদা’র জন্মদিন পালনের অনুষ্ঠানে আমরা আমন্ত্রণ জানাব বলে স্থির করেছি।
তবে সিপিএমের জেলা সম্পাদক অম্বর মিত্র বলেন, আমরা এখনও হাতে আমন্ত্রণ পত্র পাই নি। পেলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। আমরা আমন্ত্রণের সম্মান রক্ষা করার চেষ্টা করব।
এদিকে কংগ্রেসের অফিস সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, শনিবারেই আমরা দলীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে হাতে হাতে আমন্ত্রণপত্র বিভিন্ন রাজনৈতিকদলগুলিকে পাঠাচ্ছি।
জেলা স্তরের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে এই আমন্ত্রণের চিঠি যথা সময়ে পৌঁছে যাবে। জেলা সভাপতি মোস্তাক আলম চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে এই মুহূর্তে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন।
আগামী ৩০ অক্টোবর তিনি ফিরে এলে বিষয়টি নিয়ে ওই সব দলের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করে নেবেন।
এদিকে কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, সিপিএম সহ অন্যান্য বামদলগুলিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ইন্দিরা গান্ধীর প্রয়াণ দিবস পালনের অনুষ্ঠানে বিজেপি’কে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না।
তৃণমূল কংগ্রেসকে আমন্ত্রণ জানানো হবে কিনা তা নিয়েও মুখ খুলতে চান নি কংগ্রেসের জেলা নেতৃত্ব। তবে গনিখানের প্রয়াণ দিবসে সব রাজনৈতিক দলকেই আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানা গিয়েছে দলীয় সূত্রে।
জেলা কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই এই রাজ্যে বাম ও কংগ্রেস হাতে হাত মিলিয়ে চলছে। কখনও জোট বেঁধে, কখনও আসন সমঝোতা করে রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনেও লড়াই করেছি আমরা। পুরসভার নির্বাচন আসন্ন।
মালদহে কংগ্রেস রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে উল্লেখযোগ্য হলেও আমরা বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়েই লড়তে চাইছি। এই আমন্ত্রণ তারই একটি অভিজ্ঞান বলা যেতে পারে।
এদিকে ইন্দিরা গান্ধীর প্রয়াণ বার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে কংগ্রেসের আমন্ত্রণ পাওয়া নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায় নি জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেত্রী বলেন, ইন্দিরা গান্ধী কংগ্রেসের সম্পত্তি নন। প্রয়োজনে আমরা পৃথকভাবে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করব।
তবে কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি বিজেপি।
দলের সহ সভাপতি তথা প্রচার সচিব অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, ইন্দিরা গান্ধীকে কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ না করে এক সময় জল স্পর্শ করত না বামেরা।
এখন কংগ্রেস ও বামেরা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া। তাই সেই ইন্দিরা গান্ধীকে সামনে রেখেই দুই দলই অস্তিত্ব বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছে।



