হাওড়া,
হাওড়া জেলা সাঁকরাইল থানা অন্ত্রগত মানিকপুর গ্রাম। এই গ্রাম এবং তদসংলগ্ন গ্রামে হনুমানের উপদ্রপ প্রতিদিনের ঘটনা ।
কারুর গাছের কোনো ফসল থাকেনা হনুমানের তাণ্ডপে। প্রতি নিয়ত টালির খোলা পাল্টাতে হয় পাল পাল হনুমানের তাণ্ডপে ফলে।
শয়ে শয়ে হনুমান দাপিয়ে বেড়ায় প্রতিদিন। হনুমানের জ্বালায় এলাকার মানুষ বাতিবাস্ত।
হনুমানের উপর বিরক্তও রাগান্বিত সাধারণ মানুষের মুখগুলির মধ্যে পাওয়া গেলো কিছু মানবিক মুখ।
ঘোষাল পাড়ার একটি চিকন গাছের ডাল ভেঙ্গে বাচ্ছা নিয়ে হনুমানটি কে খোলার চালে পড়তে দেখেন ওই পাড়ার এক গৃহবধূ।
তিনি ভেবেছিলেন হয়তো হনুমানটি মারা যাবে! কিন্তু রাখে হরি মারে কে এই প্রবাদ বাক্যটি তখনই তার কাছে সত্যি হলো, যখন তিনি দেখলেন হনুমানটি বাচ্ছা সমেত বেঁচে আছে।
ওই অবস্থায় হনুমানটি পা টেনে টেনে একটি বাগানের দিকে ঢোকে।
এলাকার কিছু ছেলে বুটু, বিল্টু দেখে হনুমানটি চলতে পারছেনা, বুটু কিছু খেতে দিলে হনুমানটি না খেয়ে চলে যেতে থাকে, একটু এগিয়ে গিয়ে আবার উলটে পড়ে যাচ্ছে।
এলাকার উৎসুক মানুষের ভিড় জমতে থাকে । বুট কাছে গিয়ে দেখে হানুমানের ডানদিকের পিছনের অংশে বেশ বড় মতো গর্ত হয়ে পচে গেছে। সেই জন্য হনুমানটি হাঁটতে পারছে না।
এমত অবস্থায় হনুমানটি কে রেখে চলে গেলে কুকুরে টেনে নিয়ে যাবে বাচ্চা সমেত।
কেননা হনুমানটি গাছে উঠতে পারবে না তার পায়ের এই অবস্থার জন্য। তখন সে বনদপ্তর কর্মী কে ফোন করায় পাড়ার এক জন ব্যাক্তির মাধমে। যার কাছে ওই বনদপ্তরের অফিসের ফোনে নম্বর ছিল।
বৈকাল বেলায় বনদপ্তর এর কর্মীরা আসেন বিশেষ জালের মাধ্যমে হনুমানটি কে ধরেন পরে খাঁচা বন্দি করে 407 গাড়ীতে তোলেন হুনুমানটির চিকিৎসার জন্য। খাঁচা বন্দি হনুমান এবং তার ছোট্ট বাচ্চাকে দেখতে প্রচুর ভিড় জমতে শুরু করে ।
গাড়ির হরেন বাজিয়ে বনদপ্তরের কর্মীরা গ্রামের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে গন্তব্য স্তলে রওনা দেন।
চলন্ত গাড়ীর পিছন দিকে তাকিয়ে উৎসুক মহিলারা বলতে থাকেন " যাক এ যাত্রায় মা ও বাচ্চাটি প্রাণে বাঁচল, তা না হলে সন্ধ্যা হলেই কুকুরে ছিড়ে খোতো দুজনকেই , সেই জন্যই বলে রাখে হরি মারে কে !"
