দুই পরিবারের মধ্যে পারষ্পরিক দ্বন্দ্বের থেকে প্রথমে বচসা,পরে হাতাহাতির ঘটনায় উত্তাল হল রায়গঞ্জ।ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় রীতিমতো দুই পরিবারের সদস্যরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ল।
রাস্তায় নেমে একে অন্যের দিকে অস্ত্র চালানোর ভিডিও ভাইরাল হল সোশ্যাল মিডিয়াতেও।
ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ থানার দেবিনগর এলাকার রামকৃষ্ণপল্লী এলাকায়।ঘটনার জেরে আহত হয়ে রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল ভর্তি হলেন এক মহিলা।
ওই মহিলার নাম মৌমিতা দেব। বর্তমানে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।দুই পরিবারই একে অপরের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রায়গঞ্জ থানার পুলিশ।
উ
ল্লেখ্য, রায়গঞ্জ থানার দেবিনগর এলাকার বাসিন্দা বিজয়া সাহার পরিবারের সাথে মিলন দেবের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন দিন ধরে গন্ডগোল চলছিল।
বহুবার দুই পরিবার একে অপরের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। দুদিন আগে বিজয়া সাহা তিনি মিলন দেবের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিল।
মিলন দেবের স্ত্রী মৌমিতা দেব বিজয়াদেবিকে দেখতে পেয়ে মারধোরের পাশাপাশি জোড় করে বাড়িতে ঢুকিয়ে গায়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। কোন ভাবে বিজয়াদেবি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন।
গোটা ঘটনাটি স্থানীয় কাউন্সিলর অসীম অধিকারীকে জানান বিজয়াদেবী। কাউন্সিলর নির্দেশে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি ওই পরিবারের সাথে কথা বলতে বলেন বিজয়াদেবিকে।
গতকাল বিজয়াদেবির পরিবারের সদস্যরা মিলন দেবের বাড়িতে গেলে মিলন দেব ও তার স্ত্রী মৌমিতা দেব ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর আক্রমন করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে মৌমিতা দেব ও তার স্বামী মিলন দেবকে আটকায়। ওই ঘটনায় মৌমিতা দেব গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তাকে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে মৌমিতা দেবের সেখানে চিকিৎসা চলছে।
গোটা ঘটনার দুই পরিবারের পক্ষ থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিজয়া সাহার ছেলে বরুন সাহা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন দিন ধরে দুই পরিবারের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছিল।
হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ওরা এখন নাটক করছে। আমার মাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল। কাউন্সিলর নির্দেশে গতকাল ওদের বাড়িতে গেলে ওরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়।
অন্যদিকে মৌমিতা দেব জানিয়েছেন, ওরা পরিকল্পনা করেই আমার উপর হামলা করেছে। আমার আত্মরক্ষার জন্যই আমি বোঠি নিয়ে বের হয়েছিলাম।
আমি কাউকে মারিনি বলে জানান মৌমিতা দেব।
অপরদিকে মৌমিতার স্বামী মিলন দেব জানিয়েছেন, আমি জওয়ান হয়ে কেন মেয়ের গায়ে হাত দিব। আমার স্ত্রী নিজের আত্মরক্ষার জন্যই রান্না ঘর থেকে বোঠি নিয়ে এসেছিল। কাউকে মারা হয়নি বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে স্থানীয় কাউন্সিলর অসীম অধিকারী জানিয়েছেন, আমাদের পৌরসভার এক কর্মীকে মিলন দেব ও মৌমিতা দেব মারধোর করে। জওয়ানের পরিবারের পক্ষের বিরুদ্ধে আগেও অনেক অভিযোগ এসেছে।
আমার আগে মেটানো চেষ্টা করেছি কিন্তু তাদের ঝামেলা মেটাতে পারিনি বলেই প্রশাসনের উপর আমার আস্তা আছে। প্রশাসন যা করার করবে বলে জানান অসীমবাবু।
