মালদা।
পুরসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মালদহের দুই পুরসভাই নিজেদের দখলে রাখতে এবার ময়দানে নেমে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস।
রাজ্য নেতৃত্বের পরামর্শ এবং নির্বাচন বিশারদ প্রশান্ত কিশোরের পরিকল্পনা অনুযায়ী ইংলিশবাজার ও পুরাতন মালদহ পুরসভা এলাকার অধীন এলাকাগুলির মধ্যে দলের পক্ষে দুর্বল জায়গাগুলিকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিতকরণের প্রাথমিক কাজ সেরে ফেলেছে দল।
এই প্রাথমিক রিপোর্ট দলের রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি চলে গিয়েছে প্রশান্ত কিশোরের দফতরেও। এবার দলের দুর্বলতার জায়গাগুলিতে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে।
পাশাপাশি, দুই পুরসভায় দলের কাউন্সিলরদের জনসংযোগের উপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশও আসতে চলেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনই হোক কিংবা বিগত বিধানসভা ও পুরসভা নির্বাচন – সব ক্ষেত্রেই তৃণমূলের পারফরম্যান্স আশাব্যঞ্জক হয় নি।
২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে কোনও মতে দুই পুরসভা দখল করেছিল। পরবর্তীতে অন্যান্য দলের নির্বাচিত কাউন্সিলরদের দলে টেনে দুই পুরসভাতেই শাসক দলের শক্তি বৃদ্ধি হলেও তার প্রভাব পড়ে নি বিধানসভা।
দুই নির্বাচনেই পুরসভা এলাকাগুলিতে তৃণমূলকে চরম সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। এরপর লোকসভা নির্বাচনে দুই পুরসভা এলাকায় বিজেপি’র দাপটের সামনে কার্যত খড়কুটোর মত উড়ে যায় তৃণমূলের প্রভাব।
এবার তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আগে থেকেই দুর্বলতা চিহ্নিত করে লড়াইয়ে নামতে চাইছে শাসক দল।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’টি পুরসভার মোট ৪৯টি ওয়ার্ডের কোথায় কোথায় দলের দুর্বলতা প্রবল তা তথ্য সমৃদ্ধভাবে রিপোর্টের আকারে পেশ করার নির্দেশ আসে দলের জেলা নেতৃত্বের কাছে।
এরপরেই নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি ও শাখা সংগঠনগুলিকে ব্যবহার করা দুর্বল এলাকাগুলি খুঁজে বের করার কাজ শুরু করে দেয় জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। এই প্রক্রিয়ার প্রথম দফার রিপোর্ট ইতিমধ্যেই চলে গিয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রশান্ত কিশোরের দফতরেও।
দলের জেলা সভানেত্রী মৌসম নুর বলেন, পুরসভা নির্বাচনে দল কী স্ট্র্যাটেজি নিয়ে এগোবে তা নিয়ে বিশদে মন্তব্য করতে চাই না। তবে এতদইন জেলার গ্রামীণ এলাকাগুলিতে ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচীতে নেতা কর্মীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।
এবার পুরসভা এলাকাগুলিতেও একইভাবে দলের জনপ্রতিনিধিরা নজর দেবেন।
তৃণমূলের এক কাউন্সিলর বলেন, দল জানিয়েছে প্রশান্ত কিশোরের দফতর থেকে দুর্বল এলাকাগুলির বিশিষ্ট ও জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নামের তালিকা আসবে।
আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলে এলাকা উন্নয়নের বিষয়ে আরও বেশি সক্রিয় হব। আশা করি এই পদ্ধতিতে উপকার পাওয়া যাবে।
যেসব ওয়ার্ডে দলের কাউন্সিলর নেই সেখানে যৌথভাবে একাধিক তৃণমূল নেতানেত্রীকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
জেলা তৃণমূলের এক তরুণ নেতা বলেন, শুধু পুরসভা দখলই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়।
এই দুই পুরসভা হাত ছাড়া হলে এক বছরের মধ্যে দু’টি বিধানসভাও যে হাতের বাইরে চলে যাবে তা স্পষ্ট। তাই এই প্রস্তুতি পুরসভার পাশাপাশি বিধানসভারও ওয়ার্ম আপ বলা যেতে পারে।
তবে তৃণমূলের এই প্রস্তুতি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ে নি বিজেপি। দলের জেলা সহ সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, কর্পোরেট ভোট স্পেশালিষ্টের সাহায্যে পুরসভা দখলের চেষ্টা যে তৃণমূলের পক্ষে ব্যুমেরাং হবে তা ওই দলের নেতানেত্রী ছাড়া সব সাধারণ নাগরিকই জানেন।
কংগ্রেসের কালীসাধন রায়ের বক্তব্য, শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নয়, পুরসভা’র কাছে মানুষ পরিষেবা চায়।
এই ক’বছরে মানুষ কী পরিষেবা পেয়েছে তা সকলেই জানেন। সুতরাং, মানুষ আর বোকা বনতে চাইবেন না।
