মালদহ ঃ
চারদিন পর পুজো। কিন্তু আনন্দে মেতে থাকার পরিবর্তে ডেঙ্গু’র বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন মালদহের প্রায় শ’দেড়েক বাসিন্দা।
কেউ মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে আবার কেউ বেসরকারি নার্সিং হোমে ডেঙ্গু নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে মালদহের স্বাস্থ্য কর্তাদের দাবি পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির উপর কড়া নজরও রাখা হয়েছে।
মালদহের উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক – ২ ডাঃ অমিতাভ মণ্ডল বলেন, এ বছর জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩০০জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
তবে এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর কোনও খবর নেই। আমরা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখেছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সম্প্রতিও আমরা গাজোলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছি।
তবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রুখতে গেলে পৌরসভা থেকে পঞ্চায়েত পর্যন্ত সব স্থানীয় করতৃপক্ষকেই সজাগ থাকতে হবে।
তবে শেষ দু’মাসে মালদহে কত জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন তার নির্দিষ্ট হিসাব আলাদা করে করা হয় নি বলে জানিয়েছেন উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক – ২। যদিও জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক কর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন, ডেঙ্গুর দাপট মূলতঃ শুরু হয় বর্ষায়।
এবছর দেরিতে বর্ষা এসেছে। তাই বছরের শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের প্রায় অর্ধেকই এই অসুখে আক্রান্ত হয়েছে বিগত আট সপ্তাহে।
মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এখানে ২০জনেরও বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন। মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার তথা ভাইস প্রিন্সিপাল ডাঃ অমিত দাঁ জানান, আমি কয়েক দিনের জন্য ছুটিতে রয়েছি। তবে যেটুকু জানি তাতে আমাদের হাসপাতালে ২২ থেকে ২৫জন রোগী ডেঙ্গুর অভিযোগ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন। তাঁদের যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্লেটলেট আপাতত মজুদ রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা এখনও উদ্বেগের কারণ দেখছি না।
তবে, চরম আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের পরিবারের সদস্যরা। অনেকেই প্লেটলেট নেওয়ার জন্য হত্যে দিচ্ছেন মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে। রবিবার রাতে ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে দেখা যায় অন্তত দু’জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর উদ্বিগ্ন আত্মীয়রা প্লেটলেট নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।
ব্লাড ব্যাঙ্কেরই এক কর্মী জানালেন, কিছুদিন আগে পর্যন্তও প্রতিদিন প্রায় ৭০ ব্যাগ প্লেটলেট প্রয়োজন হচ্ছিল। এখন সেই চাহিদা কিছুটা কমেছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ ব্যাগ প্লেটলেটের আবেদন নিয়ে আসছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের আত্মীয়রা। আমরা যতটা সম্ভব তাঁদের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য, বছরের শুরু থেকে পতঙ্গ বাহিত রোগ আটকাতে একাধিক পরিকল্পনা ও প্রচার কর্মসূচী নিয়েছিল জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এক কর্তা অবশ্য মনে করেন, জেলায় বর্তমানে শ’খানেকের বেশি ডেঙ্গু রোগী থাকলেও তাকে ব্যর্থতা হিসাবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
তিনি বলেন, বেশ কিছু নাগরিক ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক নয়।
