শিক্ষাবন্ধুদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বৈরিতার আসল কারিগর কে ? : নন্দ দুলাল দাস





রাজ্য সরকারের সমস্ত স্তরের কর্মীই (পার্শ্বশিক্ষক, এস.এস.কে, এম.এস.কে, এ.এস, কম্পিউটার শিক্ষক, কারিগরি শিক্ষক, অতিথি শিক্ষক, আশাকর্মী, আই.সি.ডি.এস কর্মী, রন্ধন কর্মী প্রভৃতি) এই সরকারের আমলে বঞ্চিত। তবে বঞ্চিত রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সীমাহীন বঞ্চনা ও বিমাতৃসুলভ আচরণের শিকার একমাত্র শিক্ষাবন্ধুগণ অর্থাৎ কো-অর্ডিনেটরবৃন্দ। 




রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিক্ষা বন্ধুদের বিরুদ্ধে মনে হচ্ছে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। 

অন্যান্য সেক্টরের সমস্ত কর্মচারী বৃন্দই বহুলাংশে বঞ্চিত, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ না থাকলেও ;রাজ্যের শিক্ষা বন্ধুদের বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রীতিমতো ঢাল- তরোয়াল নিয়ে যুদ্ধে নেমেছেন।




 তিনি শিক্ষা বন্ধুদের হাতে মারছেন আবার ভাতে মারছেন। পৃথিবীর কোন রাষ্ট্রনায়ক আজ পর্যন্ত যা কল্পনাও করতে পারেন না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই করে দেখাচ্ছেন। আসুন একবার দেখে নেওয়া যাক, কিভাবে রাজ্য সরকার তাদেরকে বঞ্চিত করছেন। ব

ঞ্চনা এক : সর্বশিক্ষা মিশনের সমস্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রেই শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে বেতন কাঠামো ঠিক হয়েছে, কিন্তু শিক্ষা বন্ধুদের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি ; 




অর্থাৎ সর্বশিক্ষা মিশনের একজন পোস্ট গ্রাজুয়েট কর্মী বেতন পান 30,000 টাকা, অথচ একজন পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষাবন্ধু কর্মী হাতে পান 7,000 টাকার সামান্য কিছু বেশি (7336/-)টাকা। 

 বঞ্চনা দুই : সর্বশিক্ষা মিশনের অন্যান্য কর্মচারীবৃন্দ তাদের বর্ধিত বেতন এক বছরের "এরিয়ার" হিসেবে পেয়েছেন অর্থাৎ অন্যান্যদের ক্ষেত্রে এক বছর আগে থেকে বর্ধিত বেতন লাগু হয়েছে কিন্তু শিক্ষা বন্ধুদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। 

এমনটা পৃথিবীর কোথাও হয় না, এটা বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং এটা ক্রিমিনাল অফেন্সের মধ্যেই পড়ে।

 বঞ্চনা তিন : পার্শ্বশিক্ষক (প্রাথমিক), পার্শ্বশিক্ষক (উচ্চ প্রাথমিক) শিক্ষাগত যোগ্যতা আলাদা, বেতন কাঠামোও আলাদা, কিন্তু শিক্ষাবন্ধু (প্রাথমিক), শিক্ষাবন্ধু (উচ্চ প্রাথমিক), শিক্ষাগত যোগ্যতা আলাদা হলেও বেতন কাঠামো একই। 

বঞ্চনা চার : সর্বশিক্ষা মিশনের একজন গ্রুপ ডি কর্মী (অষ্টম শ্রেণী উত্তীর্ণ) বেতন পান 15000 টাকা, একজন গ্রুপ সি কর্মী (উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ) বেতন পান 19 হাজার টাকা, অথচ একজন পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষাবন্ধু কর্মী হাতে পাচ্ছেন মাত্র 7336/- টাকা মাত্র। যদিও বঞ্চনার এখানেই শেষ নয়, তালিকা আরও দীর্ঘ হবে। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সমস্ত বিষয়টি জানা সত্ত্বেও শিক্ষা বন্ধুদের সঙ্গে কেন এমন বৈরিতায় নেমেছেন ? আসল রহস্য টি কোথায় ? আসুন একবার খুঁজে দেখার চেষ্টা করা যাক। আসলে পর্দার আড়াল থেকে তাঁর মন্ত্রিসভার অন্যতম মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক কলকাঠি নাড়ছেন। খাদ্যমন্ত্রীর কুপ্ররোচনায় এবং অঙ্গুলিহেলনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষা বন্ধুদের সঙ্গে শুধু বৈরিতাই করছেন না, রীতিমত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। 

ব্যক্তিগত রাগ-বিদ্বেষ মেটানোর জায়গা এটি নয়। শিক্ষা বন্ধুদের মিছিলে লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ার গ্যাস, মহিলাদের শ্লীলতা হানি সহ একাধিক ধারায় মিথ্যা মামলা রুজু হয়েছে। 

শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের এহেন দমন-পীড়ন জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।

 রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত সমস্ত বৈরিতা ভুলে শিক্ষা বন্ধুদের ন্যায্য দাবির প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করা। অন্যথায় লড়াই আরও তীব্র হতে বাধ্য।

 (এটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত,)

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...