-গণিতের কথা শুনলেই গায়ে জ্বর আসার জোগাড়। সেই গণিতকে হাতের মুঠোয় আনতে তৈরি করা হয়েছে ছড়া, কবিতা।
বাঁধা হয়েছে গান। আবার গণিতে সহজ করে তুলতে গণিতের ওপর করা হয়েছে গম্ভীরা গানও। নিরলসভাবে শিশুদের জন্য এই কাজটি করে আসছেন দীপক দাস।
তাঁর হাতে তৈরি ‘শিশু গণিত মেধানুসন্ধান কেন্দ্র’র পরিচালনায় রবিবার খুদেদের নিয়ে বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়ে গেল মালদা কলেজের দুর্গাকিঙ্কর সদনে।
এদিন শিশুদের গণিতের প্রতি আগ্রহ তৈরির ব্যাপারে জনসংযোগের ওপর জোড় দিতে বলেন চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশন-এর শিক্ষক কমলকৃষ্ণ দাস।
তিনি বলেন, ‘জনসংযোগ এখন একটি প্রচলিত শব্দ। আর তা হলে অন্যান্য বিষয়ের মতো পড়ুয়াদের গণিতের ওপরও উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা।
অভিভাবকরা আমরা অন্যান্য বিষয়ের ওপর শিক্ষকদের কাছে খোঁজ খবর নিলেও, নিজের শিশুদের জন্য গণিতের ব্যাপারে খোঁজখবর নিই না। এ ভাবেই অবহেলিত হতে থাকে গণিত।
গণিতের ওপরও সমান জোর দেওয়া উচিৎ। গৃহশিক্ষক কিংবা স্কুলের শিক্ষক, গণিতের ব্যাপারে তাঁদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা উচিৎ।’
কমলবাবু ছাড়াও এদিন হাজির ছিলেন এনটিপিসি হাই স্কুলের শিক্ষক সুলেখা ঘোষ, মালদা টাউন হাই স্কুলের শিক্ষক মহম্মদ সানাউল্লাহ প্রমুখ।
জানা গেছে, গত বছরের ১৬ নভেম্বর গোটা জেলা জুড়ে গণিতের ওপর পরীক্ষা হয়ে যায়। তারই পুরস্কার বিতরণ করা হয় এদিনের অনুষ্ঠানে। জানা গেছে তৃতীয় শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়ারা এই গণিত মেধা পরীক্ষায় বসার সুযোগ পায়।
মোট ১৭১৭ পরীক্ষার্থী ছিল। তার মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১২০৫ জন। মেধা তালিকায় স্থান হয়েছে ১০০ জনের।
তার মধ্যে তৃতীয় শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নালন্দা শিশু শিক্ষায়তনের সুপ্রিয় মন্ডল। চতুর্থ শ্রেণিতে প্রথম জি বি ব্রাইট মিশনের পড়ুয়া উবেয় সাদিফ।
পঞ্চম শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র ঋতরিধ্যা পাল। ষষ্ঠ শ্রেণিতে সেরা চাঁচল আর ডি গার্লস-এর পড়ুয়া অনুশ্রেয়া দাস।
সপ্তম শ্রেণিতে সেরা রামকৃষ্ণ মিশনের পড়ুয়া সেফতানুল হক এবং অষ্টম শ্রেণিতে চ্যাম্পিয়ন বার্লো বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী নোভা বিশ্বাস।

