মালদহে গঙ্গা ক্রমশ বিপদজনক হয়ে উঠছে। জলস্তর ক্রমশ বেড়েই চলেছে




নিজস্ব প্রতিবেদক,

মালদাঃ 

 মালদহে গঙ্গা ক্রমশ বিপদজনক হয়ে উঠছে। জলস্তর ক্রমশ বেড়েই চলেছে। শুক্রবার গঙ্গা চরম বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। জলস্তর আরো বাড়বে বলে শঙ্কা। 

 এদিকে গঙ্গার জলে প্লাবিত গ্রামের সংখ্যা আরও বাড়ছে। জেলায় জলবন্দি বাসিন্দাদের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। 




এদিকে গঙ্গার জলে বন্দি হয়ে থাকা গ্রামগুলিতে পর্যাপ্ত ত্রাণ না মেলায় দুর্গতদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। 

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সকালে গঙ্গার জলে প্লাবিত মানিকচক ব্লকের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন কামালতিপুর গ্রাম পরিদর্শনে যান মন্ত্রী গোলাম রব্বানি, জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য, জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মন্ডল, রাজ্য মহিলা কমিশনের ভাইস চেয়ারপার্সন মৌসম নুর প্রমুখ।

 ত্রাণ পর্যাপ্ত না মেলায় মন্ত্রীর কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নতুন কামালতিপুর গ্রামের বানভাসিরা। 

মন্ত্রী অবশ্য ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের এ দিন থেকেই রান্না করা খাবার বিলি ও অন্যান্য দুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার বিলিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। 




এরপর মন্ত্রী বন্যাকবলিত রতুয়া-১ ব্লকের গ্রামগুলি স্পিডবোটে পরিদর্শন করেন। গত তিন সপ্তাহ ধরে গঙ্গার জল বাড়তে শুরু করেছে মালদহে। 

পাঁচ দিন আগে গঙ্গার জল চরম বিপদসীমা ছাড়িয়ে যায়। সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় গঙ্গার জল স্তর ছিল ২৫.৭১ মিটার। 

এদিকে গঙ্গার জল ক্রমশ বাড়তে থাকায় মালদহ জেলার কালিয়াচক-৩, মানিকচক, ইংরেজবাজার ব্লকে নতুন করে গ্রামে গ্রামে গঙ্গার জল ঢুকতে শুরু করেছে।

 ফলে ওই ব্লকগুলির বাসিন্দাদের মধ্যে বন্যাতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এদিকে জেলাজুড়ে জল বন্দির সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকলেও সরকারি ত্রাণ সেভাবে মিলছে না বলে অভিযোগ।

 এদিন মানিকচকের গোপালপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নতুন কামালতিপুর গ্রামে মন্ত্রী গেলে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়া আব্দুল শেখ, কোহিনুর বিবি, রেহেনা বেওয়ার মত দুর্গতরা ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, আমরা তিন দিন ধরে এই ত্রাণশিবিরে রয়েছি। 

তিনদিন আগে বিডিও এসে শুধু চিড়া গুড়ের ব্যবস্থা করে গেছেন। কিন্তু রান্না করা খাবার আমরা পাচ্ছি না। 

মন্ত্রী অবশ্য তাদের বলেন যে এদিন থেকেই এই ত্রাণশিবিরে রান্না করা খাবার দেওয়া হবে। ত্রাণ নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে কালিয়াচক-৩ ব্লকের গোলাপমন্ডল পাড়া, পার পরানপাড়া সহ অন্যান্য গ্রামগুলিতে। এই এই গ্রামগুলির প্রত্যেকটি বাড়িতেই জল ঢুকে গিয়েছে, যদিও তারা ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেননি। 

বানভাসিরা বলেন, জেলার অন্য এলাকায় মন্ত্রী ঘুরে ত্রাণের ব্যবস্থা করলেও বঞ্চিত আমরা। এখানে প্রশাসন কোন ত্রাণ পাঠাচ্ছে না। শুধু যাতায়াতের জন্য কয়েকটি নৌকা দিয়েছে।

 মন্ত্রী রব্বানি অবশ্য বলেন, দুর্গতদের সকলকে যাতে ত্রাণ দেওয়া হয় সে নির্দেশ জেলা প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে।

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...