বাঙালী উৎসব প্রেমী। যে কোন উৎসবে গা ভাসিয়ে দেয় আপাল বৃদ্ধা বনিতে। হাতে আর কয়েক দিন তার পড়েই উৎসবের মরসুম। একে একে বিশ্বকর্মা পূজা, দূর্গা পূজা,লক্ষ্মী পূজা এবং কালি পূজা।
আর পূজার সামগ্রীর মধ্যে অন্যতম সামগ্রী হল মাটির ধূনচি,ঘট ও প্রদীপ। একটু বেশি মুনাফা লাভের আশায় এখোন বেজায় ব্যস্ত উত্তর দিনাজপুর জেলার কুনোরের হাট পাড়ার মৃৎ শিল্পীরা।
কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হবার ফলে সমস্যা হলেও সব সমস্যা অতিক্রম করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে শিল্পীরা।
বাড়ির সকলে মিলে দিন রাত এক করে মাটি দিয়ে ঘট,ধূনচি ও মাটির প্রদীপ বানিয়ে চলেছে।
তাদের হাতের তৈরি মাটি ধূনচি,ঘট,প্রদীপ জেলার ভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি আশে পাশের এমনকি বিহার রাজ্যেও চলে যায় পাইকারেরা। তার পাশাপাশি মৃৎ শিল্পীরা কালিয়াগঞ্জের বিভিন্ন হাটে গিয়ে বিক্রি করে।
খুচরো হিসাবে ১০-১৫ টাকা ঘট ও ধূনচী বিভিন্ন সাইজের এবং পাইকারি হিসাবে ৭-৮ টাকা দরে।
মূনাফা ভালোই হয় কম বেশি। সারা বছর মাটির কাজ করেই চলে তাদের একটু বেশি ফুনাফা লাভের আশায় রাত দিন এক করে মাটির ঘট,ধূনচী বানিয়ে চলছে মৃৎ শিল্পীরা।
বাড়ির মহিলার সংসারের যত টুকু না করলে হয় না তত টুকু কাজ করে স্বামীর সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করছে বলে জানান মহিলা মৃৎশিল্পী।
এই মাটির ঘট ও ধূনচী তৈরি যথেষ্ট কাঠিন কাজ বলে জানান মৎশিল্পীরা ।
বিল থেকে কাদা মাটি এনে।কাদমাটিকে হাতের কৌশলে ঘট ও ধূনচির আকার দেবার পর তা রোদে শুকিয়ে নিতে হয়।
পড়ে তাতে রঙ করার পড় আগুনে পোড়াতে হয়।আগুনে পোড়া হলে সেই ঘট ও ধূনচি বাজারে বিক্রির যোগ্য হয়।
বাঙালীর উৎসব মরসূমে পূজো মন্ডপে মন্ডপে মাটির ঘট ও ধূনচি ও প্রদীপ যোগাতে এখন তাই চরম ব্যস্ততা কুনোড়ের হাট পাড়ায়।



