ভবঘুরে বা মানসিক ভারসাম্যহীন দেখলেই গণপিটুনি নয়। বরং সেই মানুষদের সঙ্গে ভাব জমিয়ে তাঁদের বাড়ি পাঠানোর উদ্যোগ নিয়ে ফের মানবিক মুখ দেখাল হবিবপুরের শিরসি তালুকদার পাড়ার একদল যুবক।
মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা বিহারের এক যুবককে শুক্রবার দুপুরে তারা তুলে দিল মা, দাদার হাতে।
মালদা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ান এ রকম ১৫ জন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে গত এক বছরে তারা বাড়ি ফেরাল।
এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পুলিশ ও প্রশাসনও। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবকের নাম অমিত গোস্বামী (২৯)।
এই যুবকের বাড়ি বিহারের আরারিয়া জেলার ফড়বেশগঞ্জ থানার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে।
বছর খানেক আগেই কখনও চোর কখনও বা ছেলেধরা সন্দেহে বারবার গণপিটুনি ঘটনা ঘটেছে হবিবপুরে।
সেই হবিবপুরের শিরসি তালুকদার পাড়ার একদল যুবক ভারসাম্যহীন কোনও মানুষ দেখলে তাদের আগলে রেখে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মত মানবিক মুখ দেখাচ্ছেন।
শুক্রবার সেই যুবকরাই ফের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবককে তুলে দিল পরিবারের হাতে। অমিত গোস্বামী নামে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকটিকে পাঁচ দিন আগে হবিবপুর ব্লকের আইহো এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গিয়েছিল।
গ্রামেরই যুবক তারাশঙ্কর রায় তাকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন শিরসি গ্রামে নিজের বাড়িতে। তারাশঙ্করের বলেন, দীর্ঘদিন সে অভুক্তও ছিল।
বাড়িতে এনে সাবান-শ্যাম্পু দিয়ে স্নান করিয়ে নতুন জামা কাপড় পড়ান হয় তাকে। বাড়ির খাবারই তাকে খেতে দেওয়া হয়।
এরপর পাড়ার বন্ধুরা মিলে তার সঙ্গে ভাব জমান হয়। দিন দুয়েকের মধ্যেই ধীরে ধীরে সে তার নাম ও ঠিকানা অস্পষ্ট করে বলতে পারে। গুগলে সার্চ করে অমিতের গ্রাম, থানা ও জেলার সন্ধান মেলে।
শিরসির তারাশঙ্কর, পাপ্পু সিংহ, খোকন লোহাররা বলেন, আমরা হবিবপুর থানা মারফত বিহারের সেই আরারিয়া জেলার পুলিশ সুপার, ফড়বেশগঞ্জ থানার পুলিশের আইসির সঙ্গে যোগাযোগ করি।
বিহার পুলিশের সহযোগিতায় অমিতের পরিবারের যোগাযোগের ফোন নম্বর মেলে। ভিডিয়ো কলিংয়ে অমিতকে কথা বলানো হয় মা, দাদা, বৌদির সঙ্গে।
নিখোঁজ ছেলের খবর পেয়ে এক চোখে দেখতে না পেলেও বুধবারই বড় ছেলে শম্ভুকে নিয়ে মালদহে রওনা হন তাঁরা।
এদিন সকালে তারা শিরসি তালুকদারপাড়া গ্রামে এসে পৌঁছন।
হারানো ছেলেকে সামনে দেখে তাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে মা। দুপুরে হবিবপুর থানার পুলিশের উপস্থিতিতে অমিতকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয় শিরসি গ্রামের ওই যুবকরা।
দু'বছর পর ছেলেকে পেয়ে খুশি মা উমা বলেন, অমিতের বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারে অভাব-অনটন লেগেই ছিল। ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা অমিত কাজের খোঁজে একদিন বের হয়, তারপর থেকেই নিখোঁজ।
থানায় মিসিং ডায়েরিও করা হয়। ছেলেকে যে ফিরে পাব তা ভাবতেই পারিনি। কি যে আনন্দ হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।
এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান হবিবপুর থানার আইসি ত্রিদীপ প্রামাণিক, বিডিও শুভজিৎ জানা।

