মা আসছে বছর পরে।তাই শেষ মূহুর্তের ব্যস্ততা তুঙ্গে সমস্ত পূজা কমেটি গুলিতে। কোন শেষ তুলির টানে দেবী উমাকে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।আবার কোথায় মন্ডপ সয্যার শেষ মূহুর্তের কাজ চলছে। আএ কিছু বছর যাবাত যেভাবে থিম পূজা গুলি আকর্ষনের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে দাঁড়িয়ে।
সেই মতাবেক এবারো উত্তর দিনাজপুর জেলার নজর কাড়া পূজা গুলির মধ্যে অন্যতম রায়গঞ্জের অরবিন্দ স্পোর্টিং ক্লাব। এবার ক্লাবের ৬৪ তম বর্ষে পুজোর থিম “এখনও আঁধারে “।
পুজোর থিম জুড়ে ভারতবর্ষের প্রাচীনতম জনজাতি জারোয়া সম্প্রদায়ের জীবন ও সংস্কৃতি বিভিন্ন দিক তুলে ধরতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।
পূজা উদ্যোক্তা শ্যামল চক্রবর্তী জানান বিশ্বায়নের যুগেও যারা নিজেদেরকে সভ্যতার আলো থেকে সরিয়ে রেখে এখনও আঁধারে অবস্থান করছে।
তাদের জীবনযাত্রার গল্প ফুটিয়ে তোলার জন্য পুজো মণ্ডপে রাতদিন এককরে কাজ করে চলছেন মেদিনীপুরের কাঁথির শিল্পীরা। আমাদের জীবনছন্দের সম্পূর্ন বিপরীত প্রান্তে অবস্থান করা ভারতের তথা পৃথিবীর এই আদিমতম জনজাতির মানুষের সম্পর্কে ধারনা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে।
ক্রমশ: লুপ্তপ্রায় এই জনজাতির মানুষগুলো যাতে তাদের একান্ত নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি নিয়ে জীবন যাপন করতে পারে সে ব্যাপারটা সুনিশ্চিত করা এবং কোনো বহিরাগতদের আঘাত যেন আমাদের এই সরল মানুষগুলোর ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে না পারে।
তার পাশাপাশি বিশ্ব উষ্ণায়ন, জল সংকট, খরা, বন্যা বাতাসে দুষিত পদার্থের উত্তরোত্তর বৃদ্ধিতে যেখানে সমগ্র পৃথিবীর মানুষের জনজীবন ক্রমশ: বিপন্ন হতে চলেছে সেই পরিস্থিতির উপর দাঁড়িয়ে প্ল্যাস্টিক, থার্মোকল ইত্যাদি পরিবেশদূষণকারী জিনিস বর্জন করে বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে পুজো মন্ডপ।
হোগলাপাতা, শালপাতা, বাঁশ, পাটকাঠি, খেজুরপাতা, বিভিন্ন শুকনো ফলের বাকলা, মাটির প্রদীপ, পাট, খড় ও বেত দিয়ে তৈরি হচ্ছে পুজো মন্ডপ।সব মিলিয়ে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন জিনিস দিয়ে পুজো মন্ডপটি আলো ও আবহের সংমিশ্রনে সেজে উঠবে।
যা মানুষের মনে যেমন সাড়া জাগাবে তার পাশাপাশি মানুষের সচেতন ও প্রাচীন জনজাতী সম্পর্কে অবগতিও করাবে।

