উজ্জ্বল সরকার ,গোসবা;-----
-
তিন বছর আগে হারিয়ে যাওয়া এক বয়স্ক মহিলার সন্ধান পেল পরিবারের সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিহারের সাহারসা জেলার বাসিন্দা ঐ মহিলার সন্ধান পান পরিবারের সদস্যরা।
নেপথ্যে হ্যাম রেডিও। হ্যাম রেডিওর তৎপরতায়, বিডিও গোসাবা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের ওসির সহায়তায় উদ্ধার হন ঐ বৃদ্ধা।
রবিবার তাকে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেন গোসাবা ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা।
প্রায় বছর তিনেক আগে স্বামী প্রদীপ চৌধুরি মারা গিয়েছিলেন।
জীবনসঙ্গীকে হারিয়ে কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন বছর পঁয়ষোট্টির বৃদ্ধা রামো দেবী। এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে কিছুদিন আগে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা গোসাবা ব্লকের কচুখালিতে এসে পৌঁছন তিনি।
গত মঙ্গলবার সেখানে মনসা পুজো উপলক্ষ্যে গ্রামের মানুষজন একত্রিত হয়েছিলেন। সেখানেই ঐ বৃদ্ধাকে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় মানুষজন।
তাকে উদ্ধার করে ঐ মনসা মন্দিরে রেখে স্থানীয় বাসিন্দা অপূর্ব মণ্ডল ও শুভঙ্কর মণ্ডল নামে দুই ভাই দেখভাল শুরু করেন।
পাসাপাশি ঐ মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা করেন তারা। ঐ মহিলা হিন্দির মতো কিছু একটা ভাষাতে কথা বললেও সেই ভাষা বুঝে উঠতে পারেননি স্থানীয় মানুষজন।
অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে হ্যাম রেডিও ক্লাবের সদস্যদের ফোন নম্বর জোগাড় করে সেখানে যোগাযোগ করেন।
হ্যাম রেডিও পশ্চিমবঙ্গ রেডিও ক্লাবের সম্পাদক অম্বরিশ নাগ বিশ্বাসের অপূর্ব বাবুর ফোন থেকেই ঐ মহিলার ভাষা বোঝার চেষ্টা করেন। ওনার কথা রেকর্ড করে হ্যাম রেডিওর অন্যান্য ক্লাবের সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়।
জানা যায় উনি ছেত্রী ভাষায় কথা বলছিলেন। এই ভাষায় বিহারের একটি উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষজন কথা বলেন।
লোকেশান ট্রাক করেই রামো দেবীর পরিবারের সদস্যদের খোঁজ চালাতে থাকে হ্যাম রেডিওর সদস্যরা। মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মিথিলেশ চৌধুরী নামে ঐ মহিলার দেওয়ের সন্ধান পান রেডিও ক্লাবের সদস্যরা।
তার ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাঠানো হয় কচুখালিতে। সেই ছবি দেখে দেওরকে চিনতে পারেন বৃদ্ধা। এরপর হ্যাম রেডিওর মাধ্যমে দেওয়ের সাথে কথা বলেন তিনি।
দুজনেই কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
রেডিও বন্ধুরা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, রামো দেবীর দুই ছেলে রয়েছে। বর্তমানে মোহিত ও সুরজ দুজনেই দিল্লিতে থাকেন কর্মসুত্রে। বাবা মারা যাওয়ার সাথে সাথে মা নিখোঁজ হয়ে গেলে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর নেন তারা ও।
কিন্তু কোথাও মাকে খুঁজে না পেয়ে অবশেষে কাজের জন্য দিল্লি চলে আসেন দুই ভাই। এদিন হ্যাম রেডিওর সদস্যরা তাদের সাথে ও ফোনে যোগাযোগ করেন। মাকে খুঁজে পেয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি দুই সন্তান।
এই খবর পেয়েই দিল্লি থেকে রওনা দেন তারা। রবিবার সকালে ঐ মহিলাকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় গোসাবা ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে।
একদিকে যেমন মাকে খুঁজে পেয়ে খুশি সুরজ। তেমনি বয়স্ক মহিলাকে তার ছেলের কাছে ফিরিয়ে দিতে পেরে খুশি কচুখালি গ্রামের বাসিন্দারাও।

