পুজোর মুখে সোমবার সকাল থেকে মালদহের কালিয়াচক-৩ ব্লকের গোলাপমণ্ডল পাড়ায় ব্যাপক গঙ্গা ভাঙন শুরু হয়েছে।
একদিকে আবাদি জমি গিলছে গঙ্গা নদী, আরেকদিকে ভাঙনের আতঙ্কে ঘরবাড়ি নিজেরাই ভেঙে সরিয়ে নিচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
কয়েক দিন আগে, গঙ্গার এই ভাঙনের তীব্রতা কমাতে সেচ দপ্তর নদীতে বাঁশ-পাথর ফেলে 'ডিপ ট্রিজ' পদ্ধতি প্রয়োগ করেছিল সেটাও গঙ্গার জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে।
ভয়ংকরী গঙ্গা এখন শুধু গিলছে আবাদি জমি, গাছপালা আর ভিটে।
গোলাপমন্ডল পাড়ার একমাত্র কালীমন্দিরও এখন ভাঙনের মুখে প্রহর গুনছে।
ভাঙনের এমন তীব্রতা চললেও তা ঠেকাতে কি সেচ দফতর বা ফরাক্কা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ, কারও কোনোও হেলদোল নেই বলে অভিযোগ।
গত কয়েক বছর ধরেই মালদা জেলার কালিয়াচক৩ ব্লকের পারদেওনাপুর শোভাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অর্জুনপুর থেকে শুরু করে গোলাপ মন্ডলপাড়া হয়ে পারলালপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্যাপক ভাঙ্গন চলছে।
পারলালপুর ৫০০ মিটার উজানে অনুপনগর পর্যন্ত সেচ দপ্তর বোল্ডার দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করলেও গোলাপমণ্ডল পাড়ায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে কাজ হয়নি।
এবছরও দফায় দফায় ব্যাপক গঙ্গা ভাঙ্গন চলছে গোলাপ মন্ডল পাড়ার দু কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। ইতিমধ্যে এই গ্রামের বেশ কয়েকটি পরিবার ভাঙ্গনের আতঙ্কে তাদের ঘরবাড়ি ভেঙে নিজেরাই সরিয়ে নিয়েছেন।
বাড়ি সরানোর দু-তিন দিনের মধ্যে তাদের ভিটে টুকু গ্রাস করে নিয়েছে গঙ্গা। সোমবার ভোর থেকে গঙ্গার জল ফের বাড়তে শুরু করে, শুরু হয় ব্যাপক ভাঙন।
এদিন গঙ্গা ভাঙ্গনে গোলাপ মন্ডল পাড়ার প্রচুর আম শিশু গাছ বিলীন হয়েছে গঙ্গা গর্ভে। এ ছাড়া আবাদি জমিও গিলেছে গঙ্গা।
বেশ কয়েকটি পরিবার নিজেরাই আতঙ্কে বাড়ি ভেঙে নিচ্ছেন। না হলে সেই ঘরবাড়িও গ্রাস করতে পারে গঙ্গা। সেচ দপ্তরের মালদা ডিভিশনের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রণব সামন্ত বলেন, আমরা ডিপ ট্রিজ করে ভাঙনের গতি কমানোর চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি দেখে ব্যবস্থা হচ্ছে।



