উঃ দিনাজপুর,
একটা সময় ছিল যখন জমিদার বাড়ীর পূজোয় মেতে উঠতেন গোটা গ্রামের মানুষ।
জমিদার বাড়ীর মাতৃ আরাধনার জৌলুষের খ্যাতি তো ছিলই আর সেই সাথে পুজোকে কেন্দ্র করে সাতদিন ব্যাপী চলতো যাত্রাপালার আসর।
পাশাপাশি সাতদিনই দুঃস্থ গ্রামবাসীদের জন্য থাকতো দুবেলা পাতপেড়ে প্রসাদ খাওয়ানোর ব্যবস্থা।
কিন্তু এখন সে সব আর নেই। জমিদার বংশের উত্তরাধিকারীরা প্রাসাদসম বাড়ী ফেলে রেখে চলে গেছেন দীর্ঘ বছর আগে।
কিন্তু হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে গ্রামের সকল শ্রেনীর সকল স্তরের মানুষেরা মিলে পুরোনো ঐতিহ্য আর জমিদারদের নিয়ম নিষ্ঠার রিতী মেনেই বিহার সীমান্তের নাগর নদীর তীরে ক্ষয়িষ্ণু জমিদারদের ঠাকুর দালানে পুজোর আয়োজন করে আসছেন।
উত্তর দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী জমিদারবাড়ির পুজোর মধ্যে অন্যতম প্রাচীন পূজোগুলির মধ্যে একটি রায়গঞ্জের বাহিন জমিদারবাড়িরর দূর্গাপুজো।
অবিভক্ত বাংলাদেশের দিনাজপুরের জমিদার রুদ্র প্রতাপ চৌধুরীর জমিদারী ছিল বাহিন, কুমারজল, মাকড়া, মধুপুর, লহুজগ্রাম সহ বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে।
বাহিনে নাগর নদীর ধার ঘেষে জমিদারের প্রাসাদোসম অট্টালিকা তার অবশিষ্টাংশ নিয়ে এখন কোন রকমে দাড়িয়ে রয়েছে।
প্রায় চারশো বছরের বেশি সময় ধরে বছরের বহু ইতিহাসের সাক্ষী থেকেছে এই জমিদারবাড়ী।
চুন সুরকী দিয়ে তৈরী দেওয়ালের ভাজেভাজে জমে থাকা ধুলিকনা আজও তার প্রমান দেয়। কিন্তু জমিদার রুদ্রপ্রতাপ চৌধুরীর উত্তরাধিকারিরা বাহিন বাড়িটি ছেড়ে চলে গেলেও এখানে পরে থাকা ভগ্নপ্রায় জঙ্গলাকীর্ণ প্রাসাদোসম অট্টালিকাকে বাচিয়ে রেখে তাকে আকড়ে ধরে বেচে আছেন এই গ্রামের হাজারো মানুষ।
জমিদারবাড়ির দূর্গোৎসব তার সমস্ত জাঁকজমক হারালেও সাবেকিয়ানায় ভাটা পড়তে দেননি এলাকার বাসিন্দারা। এলাকাবাসীরাই চাঁদা তুলে জমিদারবাড়ির ঠাকুরদালানে কোনওরকমে মায়ের আরাধনা করে চলেছেন বছরের পর বছর।
তবে জমিদারদের এই পুজো গ্রামের মানুষের প্রানের পুজোয় রূপ নিলেও এখন ফিরেও তাকান না স্বর্গীয় জমিদারদের শহুরে নবপ্রজন্মের বংশধরেরা। ঐতিহ্যের বাহিন জমিদার বাড়ির পুজো তাই এখন সর্বজনীন।
তবে ঐতিহ্যের ধারাকে অব্যাহত রেখে আজও দশমীতে মেলার আয়োজনটুকু করছেন আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষজন।
আর ওই দশমীর মেলা দূর দুরান্ত থেকে অনেকেই ছুটে আসেন এই বাহিনে।

