এবি বঙ্গনিউজ।
চেনা পর্যটন কেন্দ্রগুলির বাইরে, একটু অন্যরকম ভালো লাগার জায়গা হল ভারতবর্ষের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা বেড়ি পাঁচপোতা।
পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার শিয়ালদহ-বনঁগা লাইনের গোবরডাঙা স্টেশন থেকে মাত্র ১১ কিমি ও বঁনগার পেট্রোপোল বর্ডার থেকে মাত্র ১৯ কিমি দূরে সীমান্তবর্তী সবুজেঘেরা সুন্দর একটি গ্রাম হল বেড়ি পাঁচপোতা।
গ্রামটির বুকের উপর দিয়ে তিরতির করে বয়ে চলেছে ছোট্ট একটি অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ , স্থানীয় ভাষায় যাকে বাওর বলা হয়।
এই হ্রদ বা বাওরটি যেখান থেকে শুরু হয়েছে ঠিক আবার সেখানেই শেষ হয়েছে। অনেকদিন আগে এটি ইছামতি নদীর অংশ ছিল।
তারপর ইছামতি নদী আস্তে আস্তে দিক পরিবর্তন করে একটু দূরে চলে যাওয়াই এটি মূল নদী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অশ্বখুরাকৃতি হ্রদে পরিনত হয় ।
পাঁচপোতার বুকে সুন্দর এই হ্রদ ছাড়াও আশেপাশে আরো কয়েকটি হ্রদ বা বাওর আছে। যেমন ডুমোর বাওর, ঝাউডাঙার বাওর, বলদে ঘাটার বাওর ইত্যাদি।
এরা যেন সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে বসে আছে নিজ সাম্রাজের সম্রাঞ্জী হয়ে। রূপের ছটায় কেউ কারো কাছে হারতে নারাজ। এছাড়াও কাছেই আছে সুন্দরী ইছামতী যার সবুজে ঘেরা ছায়াময় পাড় এক মায়াবী পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
যার একদিকে বাংলাদেশের যশোর জেলার ভুলোট গ্রাম আর অন্যদিকে ভারতবর্ষের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বেড়ি পাঁচপোতা। ইছামতী নদী হল ভারত-বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সীমারেখা। একপাড়ে দাড়িয়ে স্পষ্ট দেখা যায় অন্যপাড়ের লোকজন, বাড়িঘর, দোকানপাট ইত্যাদি ।
ভ্রমণ পিপাষু মানুষদের দীর্ঘদিনের দাবী ভারতবর্ষের ভ্রমন মানচিত্রে স্থান পাক বেড়ি পাঁচপোতা। এলাকার মানুষের দাবী আশেপাশের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা তেঁতুলবেড়িয়া , গড়জেলা, সুবিদপুর , কালাঞ্চী, ঝাউডাঙা , বলদেঘাটা ইত্যাদি এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা হোক ইকোটুরিজম।
সুবিদপুরের বিশিষ্ট সমাজসেবী শাহাজান মন্ডল বলেন-' কলকাতার কাছেই হ্রদে ঘেরা এত সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ ভ্রমনপ্রিয় মানুষের কাছে এক অন্য মাত্রা আনবে। হয়ত আগামীদিনে বাংলাদেশের সিলেট বা ভারতের কাশ্মীরের ডাললেকের মতো দেশী-বিদেশী পর্যটকের অন্যতম গন্তব্য হবে বেড়ি পাঁচপোতা।সরকার যদি এলাকায় ইকোট্যুরিজম গড়ে তোলে তবে বাংলার ভ্রমণ মানচিত্রে সংযোযন হবে আরো একটি নতুন নাম।'



