সরকারি বঞ্চনার প্রতিবাদে পথে নামছেন রাজ্যের শিক্ষাবন্ধুরা।





নিজস্ব প্রতিবেদক।

এবি বঙ্গনিউজ, কলকাতা।


দীর্ঘ দিনের দাবি নিয়ে অবশেষে আগামীকাল শুক্রবার ( 9 /8/ 2019) রাজ্য সরকারের সীমাহীন বঞ্চনা ও বিমাতৃসুলভ আচরণের প্রতিবাদে পথে নামতে চলেছেন রাজ্যের হাজার হাজার শিক্ষা বন্ধুগণ। 



 আগামীকাল দুপুর 1 টায় সল্টলেকের করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ড থেকে মিছিল করে বিকাশ ভবন ঘেরাও করবেন তারা। এই মিছিল যেখানেই বাধা পাবে সেখানেই বসে পড়বেন তারা, জানাচ্ছেন সংগঠনের অন্যতম কনভেনার নন্দ দুলাল দাস।





 শ্রী দাস আরও জানিয়েছেন রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা বন্ধুদের নিয়ে তারা পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষাবন্ধু যৌথ মঞ্চ নামে একটি জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। অভিযোগ সর্বশিক্ষা মিশনের সমস্ত কর্মচারীদের বেতন কাঠামো শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে নির্ধারিত হয়েছে। বঞ্চিত একমাত্র শিক্ষাবন্ধু সমাজ। তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাকে পদদলিত করা হয়েছে। 



পরিসংখ্যান তুলে ধরে শ্রী দাস আরও জানিয়েছেন, সর্বশিক্ষা মিশনের একজন "গ্রুপ-ডি" কর্মী, যিনি অষ্টম শ্রেণী পাশ, বেতন পান 15000 টাকা,একজন "গ্রুপ সি" কর্মী  (উচ্চ মাধ্যমিক পাশ) বেতন পান 19 হাজার টাকা। আবার মিশনের একজন গ্রাজুয়েট কর্মী বেতন পান 25 হাজার টাকা এবং একজন পোস্ট গ্রাজুয়েট কর্মী বেতন পান 30 হাজার টাকা। অথচ উচ্চশিক্ষিত একজন পোস্ট গ্রাজুয়েট শিক্ষা বন্ধু কর্মী হাতে পান মাত্র সাত হাজার টাকার সামান্য কিছু বেশি (7336/-)। যদিও অন্য রাজ্যে এটা ষাট হাজার টাকার ঊর্ধে। বঞ্চনার এখানেই শেষ নয়। সর্বশিক্ষা মিশনের অন্যান্য কর্মচারীবৃন্দ যারা কম টাকা বেতন পেতেন, তাদের একটা থোক টাকা বাড়িয়ে রাজ্য সরকার একটা জায়গায় আনার চেষ্টা করেছেন। (যদিও তা নগণ্য) কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্য সরকার শিক্ষা বন্ধুদের ক্ষেত্রে পার্সেন্টেজে নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করেছেন। সর্বশিক্ষা মিশনের সমস্ত কর্মচারীবৃন্দ বর্ধিত বেতন 1 বছরের এরিয়ার হিসাবে পেয়েছেন। 



অর্থাৎ অন্যান্যদের ক্ষেত্রে বর্ধিত বেতন 1 বছর আগে থেকে লাগু হয়েছে। কিন্তু শিক্ষা বন্ধুদের ক্ষেত্রে তা হয়নি। তাদেরকে এরিয়ার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আবার, পার্শ্ব শিক্ষক প্রাথমিক, পার্শ্ব শিক্ষক উচ্চ প্রাথমিক, শিক্ষাগত যোগ্যতা আলাদা, বেতন কাঠামোও আলাদা ; কিন্তু শিক্ষাবন্ধু প্রাথমিক ও শিক্ষাবন্ধু উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষাগত যোগ্যতা আলাদা হলেও বেতন কাঠামো একই। অর্থাৎ শিক্ষা বন্ধুদের ক্ষেত্রে একজন পোস্ট গ্রাজুয়েট ও একজন গ্রাজুয়েট কর্মীকে একই বেতন দেওয়া হচ্ছে। ভারতবর্ষের কথা বাদ দিন, পৃথিবীর কোথাও এমন হয় না, জানালেন শ্রী দাস। এই ব্যবস্থাকে একমাত্র তুঘলকি ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা চলে। তাই এবার "করেঙ্গে ইয়ে মরেঙ্গে" আন্দোলনে শামিল হতে চলেছেন তারা। এবং গান্ধীজী তাদের আদর্শ একথাও জানাতে ভোলেননি শ্রী দাস।

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...