বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নামতে চলছে ভি এল ই রা।




নিজস্ব প্রতিবেদক। 

এবি বঙ্গনিউজ। 

চাকরির পদমর্যাদা পরিবর্তন, ৬০ বছর কর্ম নিশ্চয়তা ও বেতন বৃদ্ধি ও স্থায়ী করনের দাবিতে আগামী 2রা সেপ্টেম্বর রাজ্য সরকারের দ্বারস্থ হতে চলেছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার গ্রাম পঞ্চায়েত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (জিপিডিইও)। 

সেই উদ্দেশ্যে আগামী ২রা সেপ্টেম্বর , রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ গ্রাম পঞ্চায়েত ডাটা এন্ট্রি অপারেটরস (ভিএলই) ফেডারেশনের রাজ্য কমিটির সদস্যরা।




 সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক অপূর্ব প্রধান জানান রাজ্য সরকারের সৌজন্যে দীর্ঘদিন পর গত মার্চ মাসে তাঁদের বেতন বৃদ্ধি হয়েছে।
 তাই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। 

 বর্তমানে তাঁরা এমজি.এন.আর.ই.জি.এ. প্রকল্পের অধীন 'ভিলেজ লেভেল এন্টারপ্রেনিওর' (ভিএলই) হিসাবে নিযুক্ত রয়েছেন।


 তাঁরা চান তাঁদের এই পদের নাম পরিবর্তন করে 'গ্রাম পঞ্চায়েত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর' করা হোক। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের কাছে তাঁদের আবেদন তাঁদের কর্ম জীবনের মেয়াদকাল ৬০ বছর সুনিশ্চিত করা হোক, এবং বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টিও সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করার জন্য তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে চলেছেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি উদয়স্বর ঘোষ।
 তিনি আরও বলেন রাজ্য সরকার কর্তৃক জারি করা গত ১৫ জুলাইয়ের আদেশ নামা (৩৯৯৮ এফ (পি২) অবিলম্বে কার্যকর করা হোক।  

   উল্লেখ্য রাজ্য জুড়ে গ্রাম পঞ্চায়েত গুলিতে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মী ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসাবে নিযুক্ত হয়েছেন।



 ২০০৭-৮ সাল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ ও কম্পিউটারে ডিপ্লোমা আছে এইরকম প্রার্থীরা তৎকালীন পঞ্চায়েত সচিব মহাশয়ের আদেশনামা অনুযায়ী শুধুমাত্র কমিশনের ভিত্তিতে এমজিএনআরইজিএ প্রকল্পের অন্তর্গত ডাটা এন্ট্রি সহ অন্যান্য যাবতীয় উন্নয়ন মূলক কাজের তথ্য কম্পিউটারে এন্ট্রি ও অনলাইনে আপলোড করে চলেছেন।

 চুক্তিভিত্তিক এইসব কর্মীদের নিরলস প্রয়াসে রাজ্য সরকার এবারও দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ১০০ দিনের কাজে। কিন্তু একসময় তারা মাস শেষে সর্ব সাকুল্যে মাত্র এক-দেড় হাজার টাকা হাতে পেতেন। 

কার্যত এই সব শিক্ষিত বেকার যুবক যুবতীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় পঞ্চায়েতে ব্যয় করে ভবিষ্যত গড়বার প্রত্যাশায়। কিন্তু ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর মত অবস্থা ছিল এইসব ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের।

 তবে বর্তমান রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর সর্বপ্রথম এইসব ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের কথা ভেবে ২০১৫ সালে এই পদে আসীন সমস্ত কর্মীদের মাসিক সাড়ে তিন হাজার টাকা পারিশ্রমিকের পাশাপাশি ইন্সেন্টিভ চালু করে। 

এরপর ২০১৬ সালে এইসব কর্মীদের ইন্সেন্টিভ তুলে দিয়ে তাঁদের পারিশ্রমিক সাড়ে সাত হাজার টাকা করা হয়। 
এবং এই কর্মীদের পদের নাম পরিবর্তন করে ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের পরিবর্তে ভিলেজ লেভেল এন্টারপ্রেনিওর (ভিএলই) করা হয়।

 কিন্তু দ্রব্যমূল্য আকাশ ছোঁয়া হওয়ার কারণে সেই টাকাতেও তাঁরা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গ গ্রাম পঞ্চায়েত ডাটা এন্ট্রি অপরেটরস (ভি,এল,ই) ফেডারেশন এর লাগাতার কর্মসূচির কারনে গত মার্চ মাসে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁদের বেতন বৃদ্ধি করে ১০ হাজার টাকা করা হয়। তখন এই সমস্ত কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। 

সংগঠনের রাজ্য কমিটির যুগ্ম আহবায়ক রিপন হালদার বলেন, এখনও পর্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েতে কোন ডাটা এন্ট্রি পদ তৈরী হয়নি।

 ফলে সুদীর্ঘ কাল ধরে তারাই দায়িত্ব সহকারে দিবারাত্র পরিশ্রমের মাধ্যমে পঞ্চায়েতের সকল প্রকার ডাটা এন্ট্রির কাজ করছেন।

 ফলে অবিলম্বে গ্রাম পঞ্চায়েতে ডাটা এন্ট্রি পদ সৃষ্টি করে তাদের  স্থায়ী করাহোক। 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য সরকার প্রথম থেকেই তাঁদের পাশে রয়েছেন। 

তাঁদের সমস্ত দাবি গুলি এবারেও সহানুভূতির সঙ্গেই বিবেচনা করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং রাজ্যের সকল ডাটা এন্ট্রি অপরেটরস সহ কর্মীদের সংগঠনের উপর ভরসা রাখার অনুরোধ জানান।

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...