এবি বঙ্গনিউজ।
মমতা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে দীর্ঘ আট বছরের আবেদন-নিবেদন নীতি প্রত্যাহার করে এবার গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনকেই বেছে নিচ্ছেন তাঁরা।
রাজ্য সরকারের সীমাহীন বঞ্চনা,বিমাতৃসুলভ একপেশে আচরণ এবং তুঘলকি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দীর্ঘ আট বছর ধরে শিক্ষা মন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন-নিবেদন জানিয়ে আসছেন তাঁরা।
সর্বশিক্ষা মিশনের অধীন (বর্তমান নাম সমগ্র শিক্ষা অভিযান) রাজ্যের প্রতিটি স্কুল ইনস্পেক্টর অফিসে (অবর বিদ্যালয় অফিস) কর্মরত আছেন কয়েক হাজার শিক্ষাবন্ধু (কো-অর্ডিনেটর) আসুন একবার দেখে নেওয়া যাক, কি তাদের পদ, কি তাদের যোগ্যতা; এবং কতটা যুক্তিসঙ্গত তাদের দাবি ? এটি একটি সর্বভারতীয় পদ।
আসল পথ কো-অর্ডিনেটর, শিক্ষাবন্ধু নয়। একজন স্কুল ইন্সপেক্টরের (অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক) অধীনে বহু সংখ্যক বিদ্যালয় থাকার কারণে মসৃণভাবে বিদ্যালয়ের কাজ পরিচালনা করার জন্য বিগত কেন্দ্রীয় সরকার এবং বামফ্রন্ট সরকার এই পদের সৃষ্টি করেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় অনার্সসহ পোস্ট গ্রাজুয়েট, সঙ্গে বি.এড. থাকলে অগ্রাধিকার। আসলে পোস্টটি প্রকৃতপক্ষে সহকারি অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের পোস্ট।
কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে জন্মলগ্ন থেকেই তারা অবহেলিত। কারণ সর্বশিক্ষা মিশনের অধীন সমস্ত কর্মচারীদেরই শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে বেতন কাঠামো ঠিক হয়েছে। ব্যতিক্রম শুধুমাত্র শিক্ষাবন্ধু বা কো-অর্ডিনেটরদের ক্ষেত্রে।
এই উচ্চশিক্ষিত শিক্ষাবন্ধু বা কো-অর্ডিনেটরগণ বর্তমানে হাতে পাচ্ছেন 7 হাজার টাকার কিছু বেশি (7336 টাকা)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে আট বছর ধরে তাঁদের যন্ত্রণার কথা বলে আসছেন তাঁরা। কিন্তু তিনি কিছুতেই কর্ণপাত করছেন না।
সম্রাট অশোক বলতেন, সমস্ত প্রজাই তার সন্তান তুল্য এবং প্রজার সুখেই রাজা সুখী। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলায় এখন উল্টোটাই চলছে, অর্থাৎ রাজার সুখেই প্রজাকে সুখী হতে হবে।
আমাদের রাজ্যের ভূতপূর্ব মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় বিধানচন্দ্র রায়, তৎকালীন সময়ে উচ্চশিক্ষিত পোস্ট গ্রাজুয়েট কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অবজ্ঞার বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পি.এ.কে ডেকে ভর্ৎসনা করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উচিত ছিল বিধান রায় কে অনুসরণ করা। কারণ বিধান রায়ের তিনি যোগ্য উত্তরসূরি হয়ে উঠতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেই পথে না হেঁটে শিক্ষাবন্ধুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এটা কোনো রাষ্ট্রনায়কের কাজ নয়। রাষ্ট্রে বিরুদ্ধমত থাকবেই, একজন আদর্শ রাষ্ট্রনায়ক সবসময় তার কর্মদক্ষতার মধ্য দিয়ে বিরোধীদের মন জয় করে নেবেন, এটাই তাঁর আসল কর্মপদ্ধতি হওয়া উচিত। ইতিমধ্যে 93 জন শিক্ষাবন্ধু স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তবুও কর্ণপাত করেননি কেউ। তাই বুদ্ধিজীবীসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে তাঁদের দুর্দশার কথা তুলে ধরবেন তাঁরা।
রাজ্য সরকারের কর্মচারী হওয়া সত্বেও সন্তান-সন্ততি ও পিতা-মাতার মুখে অন্ন তুলে দিতে পারছেন না এবং বিনা চিকিৎসায় না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছেন অনেকে, তাই অযোগ্য প্রশাসক হিসাবে পদত্যাগও দাবি করেছেন তাঁরা।
