আগষ্ট মাস এলে ম‌নে প‌ড়ে যায় সেই রক্ত ঝরা দিন গু‌লির কথা।




কম‌লে‌শের কলম। 

এবি বঙ্গনিউজ।

 *আগস্ট মাস আসতেই চারদিকে দেশপ্রেমের ঝড় বইছে। ম‌নে প‌ড়ে যায় ইতিহা‌সের অন্ধকারময় গহ্বর থে‌কে বে‌রি‌য়ে আসা সেই রক্ত ঝরা দিনগু‌লির কথা। শরী‌রের প্র‌তি‌টি তন্ত্রী‌তে তন্ত্রী‌তে ,‌দে‌হের প্র‌তি‌টি র‌ক্তের কনায় কনায় শিহ‌রিত হয় কত ভারত মা‌য়ের কোল খা‌লি করা সেই সব দামাল ভারত সন্তান‌দের দেশ‌প্রে‌মের কর্মময় জীব‌নের আমৃত্যু নি‌বে‌দিত প্রা‌নের বর্নময় দিকগু‌লির কথা। D.P. থেকে টুপি সবেতেই ‌যেন তিরঙ্গার বাহার। নানাভাবে প্রমানের চেষ্টা আমরা কত বড় দেশপ্রেমিক। আজ স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে শোনাবো কিছু দেশপ্রেমের কথা। দেখনদারি নয় প্রকৃত দেশপ্রেম, যা মন কে ছুঁয়ে যায়, বুঝিয়ে দেয় দেশভক্তি কাকে বলে।* *১।সালটা ১৯৪৫, মাসটা এই আগস্ট। দুটি পরমানু বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল জাপান। দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের মুখে। কয়েক মাস পরে জাপান সরকার জনগনের উদ্দেশ্যে আবেদন জানালো প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় কাজের পরে অতিরিক্ত এক ঘণ্টা বিনা বেতনে নিজেদের কাজ করতে। এই অতিরিক্ত সময়ের উৎপাদনের আয় যাবে সরকারী কোষাগারে। এই ভাবে প্রতিটি মানুষ এক বছর এক ঘণ্টা করে শ্রম দান করলে, সেই অর্থে দেশ তার ক্ষতি অনেকটাই পূরণ করে নিতে পারবে।জনগন পরদিন থেকেই অতিরিক্ত শ্রম দিতে শুরু করলো মহানন্দে, দ্বিগুন উৎসাহে। কোন প্রতিবাদ নেই, সরকারের ওপর সব দায় চাপিয়ে দেওয়া নেই। আছে দেশের কাজ করার প্রেরনা। এইভাবে কেটে গেলো একবছর। প্রধানমন্ত্রী জনগনকে ধন্যবাদ দিয়ে জানালেন আপনাদের সাহায্যে সহায়তায় দেশ তার ক্ষতি পূরণ করে নিতে পেরেছে। কাল থেকে আর অতিরিক্ত শ্রম দানের প্রয়োজন নেই। জনগন পরদিন সরকারের কাছে গনদাবী জানালো, তাদের শ্রমদানে দেশের উপকার হয়েছে জেনে তারা আপ্লুত, তাদের জীবন সার্থক। তারা আরও একবছর একই ভাবে শ্রমদান করতে চায়।যাতে দেশ বিশ্বের প্রথমসারির দেশে পরিনত হতে পারে।* *ফাঁকিবাজিতে বাজিমাত করতে চাওয়া ভারতবাসী কী কোনদিন ভাবতে পারবে এই দেশপ্রেমের কথা।* *২।দ্বিতীয়বিশ্বযুদ্ধের সময়। জার্মানি হঠাৎই আক্রমন করে বসলো রাশিয়াকে। রাশিয়ার জনগন দলে দলে যোগ দিলো লাল ফৌজে। বাড়িতে রইল কেবল বৃদ্ধ শিশু ও গৃহবধূরা। যুদ্ধের কারনে খাদ্য সমস্যা চরমে। সরকার থেকে রেশনে মাপ করে খাদ্য দিচ্ছে। দিনে মাথা পিছু ২০০গ্রাম করে গম। এই সামান্য খাদ্যে খিদে মেটেনা কারোরই। তবু কোন অভিযোগ নেই। ৭ দিন অন্তর রেশন দেওয়া হয়। সকাল থেকে লাইন পড়ে। মাঝখানে খাদ্য শেষ হয়ে যায়। পরদিন আবার দাঁড়াতে হয় লাইনে। মানুষজন নীরবে সুশৃঙ্খল ভাবে লাইনে দাঁড়ায়*। *এক বাড়িতে এক গৃহবধূ ও তাঁর বৃদ্ধ শ্বশুর থাকেন। বাড়ির ছেলে গেছে যুদ্ধে। বাড়িতে খাদ্য শেষ, পুত্রবধু সন্তানসম্ভবা। ৭০ বছরের বৃদ্ধ শ্বশুরের শরীর খারাপ। কিন্তু পেটের জ্বালা বড় জ্বালা। অসুস্থ শরীরেই বৃদ্ধ লাইন দেন। ৪/৫ ঘণ্টা লাইন দেবার পর ঘোষণা হয়, আজকের মত ভাণ্ডার শেষ। আবার কাল। পরদিন আবার বিরাট লাইন দিয়ে বৃদ্ধ গম নিয়ে বাড়ি ফেরেন ক্লান্ত বিধ্বস্ত দেহে। পুত্রবধুর হাতে ব্যাগ তুলে দিয়ে বলেন শরীরটা বড়ই দুর্বল। সামান্য শস্য আজ কত ভারী লাগছে। পুত্রবধু একটু পর বাইরে এসে বলেন, আজ কি গম বেশী দিয়েছে? আমারও ভারী লাগায় মেপে দেখলাম গম বেশী আছে। বৃদ্ধ চমকে ওঠেন, এইরে!!! ওরা তো ভুল করে বেশী দিয়ে ফেলেছে। আমারও তো বোঝা উচিত ছিল। আমার বেখেয়ালের জন্য কোন এক পরিবার এইবারের রেশন পাবেনা। বড় ভুল হয়ে গেলো। বৃদ্ধ আবার রোদ মাথায় নিয়ে বেরিয়ে পরেন ব্যাগ হাতে। অতিরিক্ত গম ফেরত দেবার জন্য।* *দেশপ্রেমের এই নমুনা মাথা নত করে দেয়না কি শ্রদ্ধায়?দেশের মানুষের জন্য এই স্বার্থত্যাগ দেখে মনে হয়না, আমাদের এই দেখনদারি দেশপ্রেম কত তুচ্ছ?* *৩। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফুটবল। ব্রাজিলের মাঠে জাপানের সঙ্গে কলম্বিয়ার খেলা। জাপান ১-৪ গোলে হেরে গেলো। কলম্বিয়ানরা আনন্দ করতে করতে স্টেডিয়াম ছেড়ে চলে যাবার পর দেখা গেল জাপানি সমর্থকরা তখনও গ্যালারিতে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা কুড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলছে। হেরে গেলেও সারা বিশ্বের মন জিতে নিয়েছিলো তারা।* *তাদের চেতনা দিয়ে। দেশের মাথা উঁচু করেছিলো তারা।* *এই দেশপ্রেম কি কোনদিন দেখাতে পারবো আমরা?যেদিন পারবো, সেই দিন সার্থক হবে আমাদের স্বাধীনতা। সার্থক হবে আমাদের দেশপ্রেম। সেই আশাতেই থাকলাম।

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...